লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অস্তিত্ব নেই এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ ভুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও সরকারি করনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কাগজ কলমে দেখিয়ে সরকারি করনের জন্য প্রেরন করতে হয়েছে।

হাতীবান্ধা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ী মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী অনেক শিক্ষার্থীই ভুয়া। হাতীবান্ধা উপজেলার প্রান্নাথ পাটিকাপাড়া কছিম উদ্দিন এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৭ জন শিক্ষার্থী ভুয়া। এ ছাড়া মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ঘর ছাড়া কিছুই নেই বাস্তবে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করেন ওই এলাকার লোকজন। একই অবস্থা হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার। ওই মাদ্রাসা থেকে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।যে ৩ জনই ভুয়া। বৃহস্পতিবার হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪ জন ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটকের চেষ্টা করলে তারা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া ওই উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের আজীম শাহী এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও হাজী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্থিত্ব নেই।

গত বুধবার সড়ে জমিন তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসনে বাচ্চু। জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা হাসান আতিকুর রহমান হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকাকালীন তার সহযোগিতায় ওই সব ভুয়া স্কুল ও মাদ্রাসা কাগজ কলমে স্থাপন দেখিয়ে ভুয়া শিক্ষার্থী ডিআর ভুক্ত করে ও সরকারী করণের চেষ্টা করেন। এ সব বিষয়ে সড়ে জমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ইতিমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছেন হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
বিষয়টি নিয়ে ভুয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সাথে একাধিক বার কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান এসব অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমি হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকাকালীর রাজনৈতিক চাপে বেশ কিছু স্কুল ও মাদ্রাসার অস্থিত্ব না থাকলেও সেই গুলো কাগজ কলমে দেখিয়ে সরকারী করণের জন্য প্রেরন করি। সেই সুযোগে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ডিআর ভুক্ত করেন। নিজেকে নিদোর্ষ দাবী করে এসব অনিয়মের জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে তিনি আরো বলেন, হাতীবান্ধায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের কোনো অস্থিত নেই। এ ছাড়া এমন কিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যে গুলোতে তেমন শিক্ষার্থীও নেই। আমি রাজনৈতিক চাপে সব মেনে নিয়েছি।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি নিয়ত ভুয়া শিক্ষার্থীর অভিযোগ আসছে। বেশ কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুয়া স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপনের নামে ভুয়া শিক্ষার্থীকে ডিআর ভুক্তকারী ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে অভিযান করে এসব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যেখানে কোন প্রতিষ্ঠানেই নেই, সেখানে শিক্ষার্থী থাকার প্রশ্নই আসে না। এসব অনিয়মের দায়ভার তৎকালীন হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান এড়াতে পারেন না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


নুরনবী/জারিফ