গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মঙ্গাপিড়ীত ইউনিয়নের মধ্যে মনোহরপুর অন্যতম। এখানে অধিকাংশ জনগোষ্ঠী দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।

অত্র ইউনিয়নের ঘোড়াবান্ধা গ্রামের ঝাকুয়াপাড়ার হতদরিদ্র পরিবার গুলোর মধ্যে মোঃ সাদা মিয়ার পরিবার অন্যতম। খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে চলত তার সংসার। সে মহাজনের নিকট থেকে চড়া সুদে টাকা ঋণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা করত।

ফলে তার সংসার ঋণে জর্জরিত হয়ে অভাব অনাটনের মধ্যে পড়ে যায়। তার স্ত্রীও অন্যের বাড়ীতে কাজ করত। স্ত্রী ও জামাইয়ের বাড়ী থেকে ফেরৎ আসা মেয়েসহ ৩ জনের সংসার তার। অর্থাভাবে অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা করতে পারতেন সাদা মিয়া। সে অন্যের টিউওবয়েল থেকে পানি এনে খেত। পায়খানা না থাকায় খোলা জায়গায় পায়খানা করত।

সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে সে দাওয়াত পেতনা। এনজিওরাও তাকে ঋণ দিতে চাইতনা। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বৃটিশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সিঁড়ির ব্যবস্থাপনায় ও কেয়ার বাংলাদেশের সহয়োগিতায়, স্যাপ বাংলাদেশ সেতু প্রকল্প ঘোড়াবান্ধা গ্রামের ঝাকুয়াপাড়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন কল্পে কাজ শুরুকরে।

সাদা মিয়া ২০১০ সালে হতদরিদ্রের উপকারভোগীর তালিকায় অন্তভুক্ত হয়। নাম অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারনে সে সেতু প্রকল্পের সকল মিটিং-এ অংশগ্রহন করে। সেখান থেকে সে জীবন মানউন্নয়নের কৌশলসহ বিভিন্ন সচেতনমূলক আলোচনা শুনে সেই মোতাবেক কাজ শুরু করে।

একসময় তার দক্ষতা বিশ্লেষন করে জানা যায় যে তার কস্মেটিকসের (ফেরি) ব্যবসা করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ১২ জুলাই ২০১২ সালে তাকে কস্মেটিকসের (ফেরি) ব্যবসার জন্য প্রকল্প থেকে ৯ হাজার ৯৭৫ টাকা প্রদান করা হয়। টাকা হাতে পেয়ে সে আল্লাহর নামে ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসা করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় দিন-দিন তার ব্যবসা উন্নত হতে থাকে।

এখন প্রতিদিন গড়ে তার লাভ হয় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা । সে এখন তিনবেলা খেতে পায়, নিজের টিউওবয়েলের পানি খায়। নিজের পায়খানা ব্যবহার করে।

সামাজিক বিচার শালিশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়। তাকে আর ঋণের উপর নির্ভর করতে হয়না। সে বর্তমানে একটি ১৩ হাত টিনের ঘর নির্মান করেছে ১৪ হাজার টাকা খরচ করে। একটি গরু কিনেছে ১২ হাজার টাকা দিয়ে। বর্তমানে তার ব্যবসার পুঁজি বাদে এখন তার হাতে ৮ হাজার ৫০০ টাকা রয়েছে।

সাদা মিয়ার এমন পরিবর্তন দেখে জামাইয়ের বাড়ী থেকে ফেরৎ আসা মেয়েকে জামাইয়ের পরিবার ফেরৎ নিয়ে গেছে। সাদা মিয়া খুশি হয়ে তার জামাইকে ২০ হাজার টাকা সমমুল্যের বিভিন্ন উপহার সামগ্রী কিনে দিয়েছে। সে এখন অভাব অভিযোগ কাটিয়ে উঠে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।

এছাড়া গান শোনার জন্য ১টি রেডিও কিনে অবসর সময়ে আনন্দে কাটায়। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী এক বৎসরের মধ্যে তিনটি গরু ক্রয় করবে। এমন বাস্তব দারিদ্রতাকে জয় করার গল্প সাদা মিয়ার মত উজ্জিবিত মানুষেরই হতে পারে। সাদা মিয়া তাই এখন দারিদ্রতাকে গুডবাই জানিয়েছে।

ইআর