২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল ও অবরোধে আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কোনো অন্ত নেই! এ পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আশংকা বেড়েই চলছে! চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েই ৬ ফেব্রুয়ারি শক্রবার শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

এদিকে চলমান অবরোধের মধ্যেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এর আগে বলেছেন, হরতালে পরীক্ষা হবে না, তবে অবরোধে চলবে। অবরোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে সন্তান পাঠানো নিয়ে অনেক অভিভাবকই দ্বন্দ্বে আছেন।

তারা মনে করেন, অবরোধের মধ্যেও কেন্দ্রে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ কর্মসূচিতেও আহত বা প্রাণনাশের আশংকা আছে।

এ কারণে তারা অনতিবিলম্বে পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ বা অবরোধে পরীক্ষা না নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান।

চলমান সংকটে দেশের শিক্ষাবোর্ডগুলোর অধীনে অনুষ্ঠেয় এবারের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগে দিনপার করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এতদিন নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নিয়ে উদ্বেগে দিন কেটেছে তাদের। সেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু একতরফা নির্বাচনের অভিযোগে বিরোধী জোট আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে সামনের দিনগুলোতে আরও সংঘাত অস্থিরতা হতে পারে। এ আশংকা এখন থেকেই ভর করেছে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরকে।

অভিভাবকরা বলছেন, অবরোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের সময় পথে কোনো দুর্ঘটনা যে ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? কেননা হরতাল সমর্থকরা শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে পেট্রল বোমা ছুঁড়ছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলে বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছেদ পড়ে। এতে বাধাগ্রস্ত হয় পড়াশুনার পরিবেশ। তাছাড়া বাইরে বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকাতো রয়েই যায়।

২০ দলীয় জোট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতালের সময় বাড়ানোয় বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। এদিনের পরীক্ষা শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হবে।

এর আগে এসএসসি ও সমমানের প্রথমদিনের পরীক্ষা সোমবার থেকে পিছিয়ে আগামী শুক্রবার নেয়া হয়। এছাড়া প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী তৃতীয় পরীক্ষাটি রোববার নেয়া হবে।

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, বারবার পরীক্ষার সময়সুচি পরিবর্তন হওয়ায় মানসিকভাবে দু:চিন্তায় পড়েছেন তারা। তাদের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে ভয়-ভীতি ও আতংক বিরাজ করছে। বারবার এমন সময়সূচি পেছানোর কারনে তাদেরকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

হরতালের কারণে পূর্বনির্ধারিত রুটিন তছনছ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা পরীক্ষা দিতে হবে। প্রথম রুটিনে প্রায় প্রতি বিষয়ের আগে এক বা দুদিন করে বিরতি ছিল। এখন পরীক্ষার্থীদের পরপর তিনটি পরীক্ষা দিতে হবে। এভাবে পরপর তিনদিন পরীক্ষা দিলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশংকা আছে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং ছাত্রদল বুধবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের নয় জেলায় হরতাল ডেকেছে। এতে যশোর বোর্ডের অধীনে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এসএসসি এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের দাখিল, এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এদিনের পরীক্ষা হবে কিনা সে বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।

এবার সারা দেশে সর্বমোট ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। সারা দেশে ৫ শতাধিক থানা রয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি থানায় ৬টির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাবে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন ছাত্রছাত্রী। সেই হিসেবে অবরোধে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কর্মসূচি মোকাবেলার পর এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিধান সংশ্লিষ্ট থানার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এমকে/কেএইচ