কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদীতে তীব্র স্রোতে ভাঙনের কারণে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার। বর্তমান পরিবারগুলো স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় নদী ভাঙনে খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অষ্টমীরচর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লসহ অনেক প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার। পরিবারগুলো অন্যের জমিতে কোনমতে ঠাঁই নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ছবি: রাতুল হাসান
নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাহেবের আলগা, ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, সুখেরবাতি, খাউরিয়া, বন্দবেড় ইউনিয়নের উত্তরবাগুয়ারচর, বলদমারা, উত্তর খেদাইমারী, বাইশপাড়া, গোয়ালেরচর , ফলুয়ারচর, উত্তরফলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর, চরবাঘমারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।
এছাড়া রৌমারী ইউনিয়নের কান্তাপাড়া, কাশিয়ারচর, চাক্তাবাড়ি, যাদুরচর ইউনিয়নের দুবলাবাড়ি, ধনারচর পশ্চিমপাড়া ও কাঠিয়ামারী গ্রামের ইতিমধ্যে ২০ হাজার পরিবারের ভিটে-মাটি ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে। অপরদিকে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলা রক্ষাবাঁধ।
বন্দবেড়বাড়ী ইউনিয়নের আমীর হামজা নামে একজন জানান, আমাদের বসতভিটা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমরা এখন সর্বহারা, অন্যের জমিতে কোনমত ঠাঁই নিয়ে বেঁচে আছি।

ছবি: রাতুল হাসান
একই এলাকার আবুছা নামে আরেকজন জানান, আমাদের সয়-সম্বল সব নদীতে ভেসে গেছে। যার কারণে দিনে দু'এক বেলা খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছি।
তারা জানালেন, ফসলিজমি নদী গর্ভে বিলিন হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। যার কারণে প্রতি বছরেই নদী ভাঙনে আমাদেরকে থাকতে হয় আতঙ্কে।

ছবি: রাতুল হাসান
রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উদবাস্ত হয়েছে। এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে।
দ্রুত উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ১০ বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমএনজে





