শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা। একটি মাল্টি লেভেল কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর জাপানী নাগরিক হোসি কুনিও তার রংপুরের মুন্সীপাড়ার ৩১ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে রিকশায় করে ঘাসের প্রজেক্ট দেখতে আলুটারী গ্রামে রওয়ানা হন।পথে মটর সাইকেলে ৩ জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলি তিনটি লাগে তাঁর বুক, পাজর ও হাতে। সেসময় স্থানীয়রা একটি পিকাপ ভ্যানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত সিচিৎসক কুনিওকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এরা হলেন- কুনিওর বাড়িওয়ালা মুন্সীপাড়ার জাকারিয়া বালা (৫৮) ও তার শ্যালক হীরা (৪৮), রিকশাচালক মোন্নাফ আলী ও আলুটারি গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে মুরাদ হোসেন
পরে তাদের নামে একটি মামালা দায়ের করা হয়। অপরদিকে সন্দেহভাজন সোহাগ নামের এক শিবির কর্মীকেও হারাগাছ থেকে আটক করে পুলিশ।
কুনিওর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন হুমায়ন কবির হীরা। বাড়ির মালিক জাকারিয়া বালার ছোট ভাই জাপান প্রবাসি জাকারিয়া জামিল।
পরে রিমান্ডে নেয়া রাশেদুন্নবী বিপ্লবের স্ত্রী সুলতানা খাতুন শিল্পী স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাপানে আমার স্বামীর একজনবন্ধু থাকে,নাম মিশন। টাকা পয়সা সবকিছুই ওনার। আমার স্বামী শুধু দেখাশুনা করতো। তার সাথে পার্টনাশিপ বলতে কিছুই ছিল না।
এদিকে ঘটনাটি রংপুরভিত্তিক হলেও মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) টুইট করে দাবি করেছে, তারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের আরও হামলার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কুনিও হোশি (৬৬) ভারত থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। আর আগামী বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর ভিসার মেয়াদ ছিল। তিনি রংপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় এ কে এম জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রংপুরের মাহিগঞ্জের আলুতারী এলাকায় কাউনিয়া উপজেলায় কাচু আলুটারী গ্রামের মৃত তাহের মেম্বারের পুত্র শাহ আলম নামের একজন কৃষকের সাথে দেড় একর জমিতে নাপিয়ার/কয়েল ঘাসের একটি প্রজেক্ট পরিচালনা করছিলেন।
যে প্রজেক্টটি TIENS নামের চীন ভিত্তিক একটি মাল্টিলেবল (এমএলএম) কোম্পানির। যে কোম্পানিটির বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জিস্ট্রিবিউটর রয়েছে এবং জাপানে তাদের একটি প্রধান শাখা অফিস বর্তমান।
হোসি কোনিও’র বিভিন্ন সময়ে তোলা TIENS এর স্মৃতিময় ছবি ও কাজ নিয়ে বাংলাদেশে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত কোম্পানির অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা হোসি কুনিও’র সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ বা কথা হয়নি বলে জানান। তারা বলেন, আমাদের কোম্পানির বিভিন্ন দেশে গ্রাহক বা ডিস্ট্রিভিউটর থাকতে পারে, হোসি কুনিও জাপানের একজন প্রথম সারির ডিস্ট্রিবিউটর হবে হয়ত।
আলুটারি গ্রামের মমতাজ উদ্দিন। সে জানান, হোসি কোনিও গ্রামে আসার পর স্থানীয় এমপি, প্রভাবশালীদের সহায়তায় এসব জমি কিনেন। তবে জমি ক্রয়ের সময় দেশের প্রচলিত আইন মেনে কেনা হয়েছে কিনা তা জানেন না বলে জানান মমতাজ উদ্দিন।
তিনি আরো জানান, হোসি কোনিও একজন নম্র-ভদ্র মানুষ ছিলেন। তার মত মানুষ হয়না। তাকে কে বা কারা হত্যা করেছে সবাই জানে, কিন্তু বললে তার ভিটা-মাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
হোসি কুনিওকে বাংলাদেশি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। সোমবার নিহত হওয়ার পর 'শনিবার রংপুরে নিহত জাপানি নাগরিক সম্পর্কে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
কুনিও কে তিনি বাংলাদেশি দাবি করলেও পুলিশ বলছে কুনিও জাপানি নাগরিক। ১৯৪৯ সালের ৩১ মে জাপানে জন্মগ্রহণ করা হোসি কুনিও'র পাসপোর্টটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।তার বয়স ৬৬ বছর। ভিসার মেয়াদ রয়েছে ২০১৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। তার পাসপোর্ট নম্বর হলো: TK 1750552।
অন্যদিকে জাপানি প্রতিনিধিরা দফায় দফায় হোসি কোনিও’র মৃতদেহ পর্যবেক্ষণ করেও লাশ বুঝে না নেয়ায় মিডিয়া কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নানাপ্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে প্রমাণ মিলেছে হোসি কোনিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হোসি কোনিও নাম পরিবর্তন করে হয়েছিলেন গোলাম কিবরিয়া।
মুন্সিপাড়া কাদেরিয়া মসজিদের মুয়াজ্জিন তাজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের সাথেই তাদের বাসা। আর আজানের সময় আমি তো থাকিই। গত ২৭ রমজান হোসি কুনিও আর বালা ভাই (জাকারিয়া বালা) আজান হলে নামাজ পড়তে আসেন এবং নামাজ শেষে বলেন আপনারা সবাই বসেন উনি মুসলমান হবেন। এর পর থেকেই তিনি মুসলমান। নাম গোলাম কিবরিয়া।
চাঞ্চল্যকর হোসি কুনিও হত্যা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি কাজ করছে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার লোকজনও ঘটনা তদন্তে কাজ করছে।
হোসি কুনিওর মুসলমান হওয়ার প্রমাণ হিসেবে মুন্সিপাড়া কাদেরীয়া মসজিদের মুয়াজ্জিম অঙ্গীকার নামা দাখিল করেছেন। যার ফলে হোসি কুনিওকে মুসলমান হিসেবে দাফন করতে কোন বাধা নেই বলে স্থানীদের দাবি।
এদিকে, জাপানি নাগরিককে হত্যার ঘটনার পর রংপুর বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁদের পরিবার। এই দুই নেতা হলেন মহানগর বিএনপির সদস্য রাশেদ-উন-নবী ওরফে বিপ্লব ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ওরফে লাকু।
এদের মধ্যে রাশেদ-উন-নবী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী সোহেলের ছোট ভাই। বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে পুলিশ বলেছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
এদিকে দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র ও টার্গেট কিলিং’ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি)এ কে এম শহীদুল হক।
চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে রহস্য উদ্ঘাটন হলেই মূল বিষয়টি বেরিয়ে আসবে এবং এই ষড়যন্ত্রে কারা ছিল তাও বের করা হবে।দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করে আইজিপি বলেন, বিদেশিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শহীদুল হক বলেন, দেশে দু-একটি ঘটনা ঘটলেই যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে তা বলা যাবে না। যেসব ঘটনা ঘটছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে এবং দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তাদের সেখানে নিয়োজিত করা হয়েছে। তদন্তে সব কিছু উদ্ঘাটন শেষে এর রহস্য জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
আইএস বা জঙ্গিবাদ সন্দেহে যাদের ধরা হচ্ছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক খুনের পর এবার পিছিয়ে গেল ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার ২০১৫’। এর আগে স্থগিত হয় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেট দলের খেলা। স্থগিত হয়েছে তৈরি পোশাকের ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরামের একটি বৈঠক। এছাড়া ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের ঢাকা সফরও স্থগিত হয়েছে।
এতে মেলায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ডেলিগেটস এবং ট্যুরিস্ট গ্রুপ ইতিমধ্যে তাদের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে।’এজন্য মেলার পূর্বঘোষিত তারিখ পরিবর্তন করে একই ভেন্যুতে আগামী ১৯-২১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের এমপি মন্ত্রীরা এ ঘটনা বিরোধীদল করেছে বলে বলে আসছেন। মাতার দাবিকেই অনুসরণ করেছেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে একটু ব্যতিক্রমভাবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, লন্ডন বিএনপির ভেতর থেকেই তাকে জানানো হয়েছে, দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জড়িত। তিনি বলেছেন, লন্ডন বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। নিজস্ব ফেসবুক পাতায় দেয়া এক স্ট্যাটাসে জয় এই দাবি করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি ইংরেজি ও বাংলায় লিখেন, ‘খুব নির্ভরযোগ্য একটা সূত্র থেকে আমি জেনেছি যে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিদেশি হত্যাকাণ্ডে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। অত্যন্ত মরিয়া হয়ে তারা এটা করছে যাতে বিদেশি সরকারগুলো আমাদের দেশের বিরাগভাজন হয় এবং দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। লন্ডন বিএনপির ভেতর থেকেই এই তথ্য এসেছে।’
দুটি হত্যাকাণ্ডের পর তার দায় স্বীকার করে টুইট করে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার দখল নিয়ে খেলাফত ঘোষণাকারী জঙ্গিগোষ্ঠি ইসলামিক স্টেট(আইএস)।
তবে সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জোরালোভাবেই বলা হয়, এখানে আইএসের কোনো তৎপরতা নেই। যদিও গত কয়েক দিনে আইএস সন্দেহে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশ শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দাবি করেন, ‘দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। এর পেছনে অবশ্যই বিএনপি-জামায়াতের মদদ রয়েছে।’
আর পাবনায় খ্রিস্টান ধর্মযাজক লুক সরকারকে হত্যার চেষ্টার পর এক শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।লুক সরকার বলেছে, ‘যাকে আটক করা হয়েছে, তার নাম আমি বলিনি এবং তাকে চিনিও না। যারা আমাকে হত্যা করতে এসেছিল, তাদের আমি দেখলে চিনব।এ বিষয় নিয়ে পুলিশ তাকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
হত্যাকাণ্ড বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস নিয়ে দেশে অপরাজনীতি চলছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের সংকীর্ণ মানসিকতার জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না।
৮ তারিখ (বৃহস্পতিবার) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনীতিবিদরা কাঁদা ছোড়া-ছুড়ি বন্ধ না করলে বাংলাদেশে উগ্রপন্থিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নকারীরাই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্ঠা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে তিন দিনব্যাপি আয়োজিত আর্ন্তজাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা কোনো আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদের অংশ নয়। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ অশুভ রাজনীতির অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দুর্বৃত্তদের গুলিতে জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও নিহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। (৮ তারিখ) বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- ব্যাংকের সেলস অ্যান্ড সার্ভিস অফিসার মো. সুলতান নাহিদ ও ক্রেডিট কার্ড অফিসার এইচ এম শাহারিয়ার।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাহার আলী জানান, জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ব্র্যাক ব্যাংক রাজশাহী শাখার চারজন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে রংপুর পুলিশের কেউ এ আটকের সত্যতা স্বীকার করেননি।
৫ অক্টোবর সোমবার রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান ও পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর। সোমবার বেলা ১১ টায় সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান তিনি।
তদন্তের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি কিছু বলতে না চেয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, যেহেতু বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের তাই সবদিক বিবেচনা করেই গুরত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএলের উত্থান ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্ততি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডসহ বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তা নিরসন করতে হবে।
তিনি বলেন, আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লিভান্ট)-এর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কখনই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। এসব সন্ত্রাসীদের প্রচুর অর্থ-সম্পদ এবং লোকবল রয়েছে।
বাংলাদেশে পর পর দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে বার্নিকাট বলেন, দুটো ক্ষেত্রেই হত্যাকান্ডের ধরন ও পরবর্তীতে আইএসআইএল-এর স্বীকারোক্তি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের কাছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।
সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নই, কোনো ধর্ম নেই মন্তব্য করে বার্নিকাট বলেন, এসব ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত হতে হবে। আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে।
এদিকে, ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার ও জাপানের নাগরিক হোসি কুনিও হত্যাকান্ডের তদন্ত এখন পর্যন্ত ‘সম্ভাব্য ক্লুতেই’ সীমাবদ্ধ। খুনিকে গ্রেফতার কিংবা শনাক্ত করা যায়নি। জানা যায়নি খুনের কারণও। তবে সম্ভাব্য কিছু ক্লু উদ্ঘাটনের দাবি করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সেগুলো নিয়ে মূলত তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে এ দুই খুনের।
রাজধানীর গুলশানের কূটনীতিকপাড়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর তাবেলা সিজার খুন হন। পাঁচ দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর রংপুরে একই কায়দায় খুন হন হোসি কুনিও। দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ দুই বিদেশি হত্যায় প্রকৃত জড়িতরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ওই সময় বলেছিলেন, আশা করি, শিগগিরই দুই বিদেশি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, দুই বিদেশি হত্যাকান্ডের মূলে কোনো গোষ্ঠী জড়িত তা অচিরেই জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, হত্যাকণ্ডের শিকার দুই বিদেশি নাগরিক ছিলেন খুবই নিরীহ ও সাদাসিধে। এ দুই হত্যাকাণ্ডে আইএসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জাপানের নাগরিক সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। নামাজ পড়তে নিয়মিত মসজিদে যেতেন। তাহলে কেন তাকে আইএস হত্যা করবে? ইতালির নাগরিকও সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি তার এনজিওর মাধ্যমে ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদ করতেন। এ সার্বিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
এম এ/কেবি





