কোটি টাকার চামড়া যখন বর্জ্য! কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কারসাজির অভিযোগ।
দেশের ইতিহাসে কোরবানি পশুর লাখ লাখ চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
চামড়ার দামে কারসাজির অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আড়ৎদার ও ট্যানারি মালিকরা। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, বকেয়া টাকার অজুহাতে বাজার কারসাজি করেছে আড়তদার ও পাইকাররা। অন্যদিকে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পাওয়ার দাবি সাফ নাকোচ করে দিয়েছেন আড়ৎদাররা।
সরকারের কাঁচা চামড়া রপ্তানির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকের মত, স্বল্প মেয়াদে চামড়ার দাম ফেরাতে ভূমিকা রাখলেও তৃণমূলের ব্যবসায়ীরা এবার আর সুফল পাবেন না।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংস করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে এ শিল্প বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চট্টগ্রামে এবার ৫ লাখের বেশি পশু জবাই করা হয়েছে। চামড়ার দাম না থাকায় বেশিরভাগ চামড়া বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হয়। অবশিষ্ট চামড়া মৌসুমী এবং খুচরা ব্যাসায়ীরা খুব স্বল্পমূল্যে কিনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো করেন।
কিন্তু গত দুই দিনে বিক্রি করতে না পারায় এসব চামড়া পঁচে যাওয়াতে মৌসুমী ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ চামড়া ফেলে চলে যান। অনেক মাদ্রাসা-এতিম খানা কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলে।
চামড়ার এই ভয়াবহ পরিণতির জন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীরা দায়ী করলেন পাইকার এবং আঁড়তদারদের। অপরদিকে আঁড়ত মালিকরা দায়ী করছেন ট্যানারি মালিকদের।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মাহাবুবুল আলম বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা লাখো পঁচা চামড়া ২শ শ্রমিক মিলে গত রাত পর্যন্ত পরিস্কার করেন। এরজন্য দায়ীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
এএস





