মিসরের আদালতে শুনানি কালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ইসলামপন্থী একমাত্র গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। তার মৃত্যুর ঠিক ৩ মাস পর প্রয়াত প্রেসিডেন্টের ছেলে আবদুল্লাহ মুরসিও হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু।

আবদুল্লাহ মুরসি পরিবারের মুখপাত্র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। আব্দুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে গেছেন আবদুল্লাহ মুরসি। বাবা মুরসিকে উদ্দেশ্য করেই দিয়েছিলেন সেই স্ট্যাটাস। জেলখানায় বাবার মৃত্যু যে মেনে নিতে পারছিলেন না সেটি স্পষ্ট আবদুল্লাহর স্ট্যাটাসে।

আবদুল্লাহ মুরসির সেই স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা। যা প্রতিটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

আরবিতে লেখা আবদুল্লাহ মুরসির স্ট্যাটাসটির অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়ায়-

“আল্লাহর শপথ! হে আমার পিতা! আমার অন্তর সুস্থ হবে না, আমার ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগবে না এবং আমার দুশ্চিন্তাও দূর হবে না; যতক্ষণ না আমি আপনার সঙ্গে আপনারই পথে মিলিত হই। (যদি আমার আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ পূরণ করেন) তাহলে এরপর আমার জীবনে দুনিয়ার আর কোনো কিছুই আকর্ষণ করবে না।”

কারাবন্দি অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় মুরসির মৃত্যু আবদুল্লাহ মুরসি মেনে নিতে পারেননি সেটি স্ট্যাটাসে স্পষ্ট। পিতার সঙ্গে পুত্রের আত্মার মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ছিল তীব্র। আর বিশ্লেষকরাও ধারণা করছেন যে, পিতার শোকেই আবদুল্লাহ মুরসি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

গত ০৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মিসরের সাবেক প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ছেলে আবদুল্লাহ মুরসি মারা গেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু নিউজ এজেন্সি।

আল জাজিরাসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুরসির ছোট ছেলে আবদুল্লাহ মুরসি রাজধানী কায়রোর দক্ষিণের গিজা শহরের একটি হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।  তবে তিনি আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন কীনা বা কী কারণে হুট করেই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলেন সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।   

এর আগে চলতি (২০১৯) বছরের ১৭ জুন আদালতে শুনানি চলাকালীন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মোহাম্মদ মুরসি। রাজধানী কায়রোর পূর্বাঞ্চলীয় নাসার শহরে তাকে দাফন করা হয়। অনেকটা গোপনেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছিল।

মুরসির মৃত্যুর পর তার পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে বাইরের লোকদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব ছিল আবদুল্লাহ মুরসির ওপরেই। পরিবারের মুখপাত্র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তার বাবার মৃত্যুর জন্য তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরই দায়ী করে আসছিলেন। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক। এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ব্রাদারহুডের হাফেজ মোহাম্মদ মুরসি।

কিন্তু ২০১৩ সালে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

২০১৩ সালে মুরসির নেতৃত্বাধীন মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয়। এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- তিনি অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার করেছেন। আদালত হাফেজ মোহাম্মদ মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।

এমবি