সুপ্রিমকোর্ট জামে মসজিদের খতিব ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো কূল কিনারা খুঁজে পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ।
এঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহতের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ,শুধু মাত্র ধারণার উপর ভিত্তি করে তদন্ত কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন,মতাদর্শের বিরোধিতাকারীরাই ফারুকীকে খুন করেছে। এব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করেও তারা একই অভিযোগ করেছেন।
গত ২৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় ফারুকীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরিবারের দাবি উগ্রবাদীরাই হত্যা করেছে তাকে। শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে আহাম্মেদ রেজা ফারুকীর দাবি, বাবার ধর্মীয় মতাদর্শের বিরোধী উগ্রবাদীরাই পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।
নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে কারওবিরোধ নেই কিংবা লেনদেন নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। ‘পারিবারিক কলহ বা ব্যবসায়িক কারণে তিনি খুন হননি ধর্মীয় মতাদর্শ বিরোধীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ফারুকী ছিলেন সুন্নি মতাদর্শের একজন আলেম। তিনি শরীয়ত ও সুফিবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। এ কারণে এরআগে অনেকবারই হত্যার সম্মুখীন হন তিনি।
হত্যার ঘটনায় ৬ আলেমের বিরুদ্ধে মামলা:ফারুকী হত্যার ঘটনায় টিভি উপস্থাপক তারেক মনোয়ারসহ মোট ৬ আলেমের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য ফ্রন্টের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র সেনার ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হুসাইন তুষার মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য শেরে বাংলানগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন চ্যানেলের ইসলামি অনুষ্ঠানের উপস্থাপকেরা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামি পারসোনালিটি’ নামের একটি সংগঠন করার জন্য গত ২২ আগস্ট ঢাকা ট্রেড সেন্টারে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে জামায়াতের নেতা তারেক মনোয়ার হুমকি দেন। অন্য আসামিরাও তারেকের সঙ্গে একজোট হয়ে হুমকি দেন। বাদীর বিশ্বাস,আসামিরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
একই সঙ্গে শেরে বাংলানগর থানায় ফারুকীর ছেলের দায়ের করা মামলারও তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। মামলার আসামীরা হলেন, তারেক মনোয়ার, কামাল উদ্দিন জাফরী, কাজী ইব্রাহীম, আরকানুল্লাহ হারুনী, খালেদ সাইফুল্লাহ বখশী, মুখতার আহমদ। আসামিরা সবাই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক ও আলোচক।
এব্যাপারে মামলার ফারুকী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৬ আসামীর অন্যতম দু'জন তারেক মনোয়ার ও খালেদ সাইফুল্লাহ বখশীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইলফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে। এরআগে নিহতের ছোট ছেলে আব্দুর রউফের স্বাক্ষর নিয়ে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসেও খুনীরা ধরা ছোয়ার বাইরে
মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কয়েকদিনের মধ্যেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে সংসদকে অবহিত করেছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এমনকি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখভাল করছেন বলেও জানান তিনি।
গত ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় কার্যদিবসে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এমন আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ফারুকীর হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখানে অন্য কোনো মোটিভ থাকতে পারে। সেটা যেটাই হোক আমরা কয়েকদিনের মধ্যে বের করতে পারবো আশা করি।’
‘আমরা কোন ঘটনাকেই ছোট করে দেখছি না। সব ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমরা কোনো জজ মিয়া নাটক তৈরি করি না। সত্যিকারের ঘটনা বের করার চেষ্টা করছি বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী। তবে তার সে বক্তব্যের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও খুনীদের ধরা তো দূরের কথা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
হত্যার মোটিভ নিয়ে ধোয়াশায় গোয়েন্দা পুলিশ:
অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ফারুকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করলেও মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশ ঘটনার আসল মোটিভ ধরতে পারছেন না। বরং খুনের কারণ আলামত না থাকার কারণে অনেকটা ধোয়াশায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে ডিএমপিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও ডিএমপি মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন,আমরা এখনো ফারুকী হত্যাকান্ড সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছি। তবে হত্যকান্ডের রহস্য উদঘাটনে সবার্ত্মক চেষ্টা চলছে। ধর্মী উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠি এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। অন্য মোটিভও থাকতে পারে। তবে নিশ্চিত করে কোনোটিই বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কাছে এব্যাপারে তেমন কোনো প্রমাণ নেই।
মতাদর্শগত পার্থক্য, পারিপাশ্বিকতার কারণে প্রাথমিক ভাবে এমনটিই ধারণা করে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, এধরণের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনে সময় তো লাগবেই।
ঢাকা, জেইউ,৯ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





