দীর্ঘদিন পর এবার ঘর গোছাতে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এই দলটির তৃণমূলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। সম্প্রতিনারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে নড়ে চড়ে বসেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এরইমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেক সাংগঠনিক জেলায় সময় মত কাউন্সিল হয়নি। তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত রয়েছে নেতাকর্মীরা। প্রতিনিয়ত জড়িয়ে পড়ছেন দ্বন্দ্ব-সংঘাতসহ নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডে। সঠিক সময়ে কমিটি না হওয়ায় তৃণমূল নেতাদের কমান্ড মানছে না তাদের কর্মীরা।
নাম না প্রকাশের শর্তে আওয়ামী লীগের এক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা টাইমনিউজবিডিকে জানান, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে কিছু বিশৃঙ্খলা রয়েছে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা কমেছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ও দলকে সুসংগঠিত করতেই তৃণমূল সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নীতি নির্ধারকরা।
এছাড়াও দলীয় এমপিদের মধ্যেসাংগঠনিক কাজে গাফলতি রয়েছে। তাদেরকেদলীয় কাজে সক্রিয় করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার জন্য দলকে সুসংগঠিত এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখা একান্ত প্রয়োজন বলেও মনে করছেন দলের হাইকমান্ড।
এছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে জেলায় জেলায় প্রতিনিধি সভা করার কথাও ভাবছে দলের সম্পাদকরা। খুব শিগগিরই দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানাগেছে।
সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলা সমূহে সম্মেলন করবে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল নেতৃত্ব পুনর্গঠনের জন্য দলের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দলের সধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে তৃণমূল গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়। দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকদের নিয়ে এর রোডম্যাপ তৈরী করা হবে বলেও জানাগেছে।
এ লক্ষ্যে গত ২৬ মে সৈয়দ আশরাফের নেতৃত্বে দলের ৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৭ সাংগঠনিক সম্পাদক একটি বৈঠক করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই রুদ্ধদার বৈঠকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে যেসব জেলাসমূহে সম্মেলন করা হয়নি সেসব জেলাসমূহে সম্মেলন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবং আগামী ১৫ জুলাইয়েরমধ্যে ৫টি সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর গত ৮ জুন সৈয়দ আশরাফ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে আবারও দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ৭ সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়।
জেলাগুলো হলো- ২১ জুন মুন্সিগঞ্জ, ২৬ জুন বরগুনা, ২৭ জুন পটুয়াখালী, ২৮ জুন কিশোরগঞ্জ, ১২ জুলাই ঠাকুরগাঁও, ১৫ জুলাই খুলনা মহানগর এবং ১৯ জুলাই রাজশাহী মহানগর।
দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা যাচাই করে এসব তারিখ অনুমোদন করবেন বলেও জানাগেছে। এবং ধীরে ধীরে বাকি সাংগঠনিক জেলাগুলোর কাউন্সিলের তারিখও নির্ধারণ করা হবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'আমাদের সাংগঠনিক কিছু জেলায় বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তাই দলকে সুসংগঠিত করতে এবং বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা কিছু জেলায় সম্মেলন করার সাম্ভব্য তারিখ নির্ধারণ করেছি। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এরপর কমিটি দেয়া হবে।'
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। খুব দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোতে সম্মেলন করা হবে। সম্মেলন শেষ হলে কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা কাউন্সিলরদেরকে উৎসাহ দিব যাতেতারা সৎ, নিষ্ঠাবান ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচিত করে।'
৮ জুন বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'বিভিন্ন কমিটিতে অনেকে বহু দিন ধরে পদ আঁকড়ে আছেন, মনে করতে হবে তারা কেউ দলের জন্য অপরিহার্য নন। তাই তৃণমূলের মতামত নিয়ে খুব দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলে শৃঙ্খলা না থাকলে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হবে না।'
ঢাকা,এমআর,১২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





