দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে নিম্নমানের চাল আমদানি করায় কুষ্টিয়ায় দেশের দ্বিতীয় বৃহৎতম চালের মোকাম খাজানগরের ৩’শ মিল ও ১২’শ চাতালের ৯৯ ভাগই বন্ধ হয়ে গেছে।
এখানকার এই চাতালের সাথে জড়িত প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক বেকাত্ব জীবন যাপন করছে। ব্যাংকের ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মিল নিলামে উঠার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যে ৫/৭টি মিল নিলামে উঠলেও খরিদদারের অভাবে তাও বিক্রি হচ্ছে না। যেখানে এক কাঠা জমির মূল্য ১০ লাখ টাকা, ওই জমি বর্তমানে ১ লাখ টাকাতেও বিক্রি করতে পারছেনা বলে অভিযোগ তুলেছে মিল-চাতাল মালিকরা।
অনেক মিলের মালিকরা তাদের জীবন জীবিকার তাগিদে চাতাল ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অটো চালিয়ে সংসার চালাতে ব্যস্ত সময় পার করছে বলে জানা গেছে।
খাজানগরের চাতাল মালিকরা জানায়, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি করায় দেশি চাল বিক্রি হচ্ছেনা। কারন হিসেবে তারা বলেন ভারতীয় চাল দেশী চালের চেয়ে দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা ভারতীয় চাল ক্রয়ে ঝুকছে। শুধু চালই নয় চালের খুদ পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতীয় চাল নিম্নমানের হলেও দাম কম হওয়ায় বেচাকেনা বেশী হচ্ছে। সে কারনেই ৫/৬ মাস ধরে চাতাল ব্যবসায়ীদের চাতাল ব্যবসা ধ্বস নামতে থাকে। এরপর আবার চলতি বছরে দেশে রাজনৈতিক সংকটের কারনে চাল ব্যবসায়ীদের ব্যাপকহারে লোকসান হওয়ায় মিল ও চাতাল ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
মিল মালিকরা সরকারের কাছে ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধের দাবী জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। বরং দিন দিন আরো চাল আমদানি বেড়ে গেছে। যে কয়েকটি মিল ও চাতাল এখনো চালু আছে তারাও পড়ে আছে বেকায়দায়।
কুষ্টিয়ার খাজানগরের উৎপাদিত চাল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হলেও ওই বিক্রির টাকাও ঠিকমত ব্যবসায়ীরা হাতে পাচ্ছেনা। এর পর আবার চালের ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনাতো আছেই।
মিল মালিককেরা অভিযোগ করে জানান, ইনসিওরেন্সসহ ব্যাংক থেকে ঋন নিতে হলে ২০% সুদ দেয়া লাগছে। এর পরেও ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ঋনের টাকা শোধ করতে না পারায় ঋনের ভারে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
দেশের বাজারে ধানের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ খরচ বেশী, শ্রমিকের মজুরী বেশী সব মিলে উৎপাদন খরচ বেশী হওয়ায় দেশীয় চালের মুল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল ও খুদ আমদানি বন্ধ করা হলে আবার ফিরে আসবে কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালের মোকামের ব্যবসা। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এমকে





