ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রেখে অধিনস্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে অনুসন্ধান এবং তদন্তের গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অভিজ্ঞ মহলে।
কারণ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ তদন্তকালে অবশ্যই তাদেরকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নেয়ার বিধান রয়েছে।
তবে এখনো কেন দুদকের আইন বিভাগের মহাপরিচালক মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির নায়ক কামরুল হোসেন মোল্লা ও পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়াসহ ৯ জনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে না তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর কমিশন এ ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতি এবং কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা নেয়ার বিষয়ে শক্তভাবে অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী ও সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধানী টিম গঠন করেছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুদকের মহা পরিচালক ও পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের স্বপদে এবং আগের দায়িত্বে বহাল রেখে দুদকের অনুসন্ধানী টিম কোন অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।
কারণ দুদকের এ কর্মকর্তাদের (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) হাত অনেক লম্বা। তারা দুদক কার্যালয়ের কর্মরত থাকার সুযোগে ‘সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এবং সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং আমলাদের মাধ্যমে তদবির করে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার সুযোগ পাবেন।
এমনকি অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদেরকেই উল্টা বিপদে ফেলতে পারেন এমন আশংকাও করছেন দুদকের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
তাদের পরামর্শ মতে, সন্দেহভাজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দুদক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে প্রথমত দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি (ওএসডি) করা উচিত।
দ্বিতীয়ত দুদকের অভ্যন্তরীন নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক টিম গঠন করে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ দুদকের ভেতরের দুনীতির প্রতিরোধে একটি বিভাগ রয়েছে।
জানা যায়, দুদকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার ইতোমধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সরকারের প্রভাবশালী ৪ আমলার (সচিব) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানী আরো বেশ কয়জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আর ঠিক সেই মুহুর্তে দুদকের ভেতরে ঘাপটিমেরে থাকা এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কেন এখনো দুদক থেকে বের করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আর এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে প্রকৃত দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা আজ বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুদকের পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে ২ বছর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন। ইতোমধ্যে তার এক বছর অতিরিক্ত চাকরি করেছেন।
এছাড়া বাকিরাও সরকারের কাছ থেকে নানা উপায়ে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন কিনা তা অনুসন্ধানের আগে বলা যাচ্ছে না। আর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে দুদকের চলমান দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন দুদকের সাধারণ কর্মকর্তারা।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রয়েছেন, দুদকের ডিজি কামরুল হাসান মোল্লা, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার,
সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী (পুলিশের এএসআই) নুরুল ইসলাম ও কোট সহকারী পুলিশের এ এসআই ইসহাক ফকির। তবে দুদকের আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
একে/ এআর





