দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানি কমলেও, কমেনি দূর্ভোগ। এখনো বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান। উত্তরাঞ্চলে বানের পানি যদিও নেমেছে, তবে তার সাথে সাথে বাড়ছে রোগ-বালাই। আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এমনকি গবাদি পশুর খাদ্যেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে এসব অঞ্চলের মানুষকে। এরই মধ্যে, ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

দিন যতই গড়াচ্ছে কুড়িগ্রামের চিলমারিতে বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ ততই বাড়ছে। আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট প্রবল হয়ে উঠেছে। ধরলা অববাহিকার অনেক ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামলেও এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। বানের পানিতে ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় সাড়ে ৩৮ হাজার হেক্টর জমির কৃষকের স্বপ্নের ফসল এখন পানির নিচে। আমন, শাক-সবজি পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২ লাখের বেশি কৃষক।

এখানকার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা জানান তাদের দুর্বিসহ জীবনের কথা। এ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন তাও যেন বুঝতে পারছেন না ভুক্তভোগী মানুষগুলো।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এক বৃদ্ধ জানালেন, মুরগী, ছাগল, হাসসহ তার অসংখ্য গৃহপালিত পশু পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া যে ক’টি গবাদি পশু জীবিত আছে, সেগুলি এখন রোগাক্রান্ত। 

বন্যার পানিতে যখন ঘরবাড়ী অনেকটা ডুবে যায় তখন কোথায় রাত কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানালেন, স্থানীয় একটি ব্রিজে রাত্রীযাপন করেছেন পরিবারের সকল সদস্য। শুধু তার পরিবারই নন, এলাকায় প্রায় সকলেই অনেক রাত কাটিয়েছেন ঐ ব্রিজের উপরেই। যেখানে প্রতিনিয়ত মশার কামড় থেকে শুরু করে বহু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে সবাইকে।

এখানেই শেষ নয়, টানা তিন দিন একেবারেই অনাহারে ছিল এই অসহায় মানুষগুলো। আবার কয়েকটা দিন পার করেছেন শুধুমাত্র চিরা, মুরি আর বিস্কিট খেয়ে। এ যেন খানিকটা দূর্ভিক্ষের মতই জীবনযাপন।

সরকারী কোন সহযোগিতা আসছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বললেন, সরকার থেকে ত্রান আসছিল ঠিকই, তবে পর্যাপ্ত না। কেমন পর্যাপ্ত না সেটা উদাহরণ দিতে গিয়ে তারা জানালেন, যেখানে ১ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ, সেখানে ত্রান অসছিল ৩শ’ জনের জন্য। যার কারণে অনেকেই ত্রান সহযোগিতা পাননি।

আকবর আলী নামে আরেকজনের সাথে কথা বললাম। জিঙ্গেস করলাম এখন তিনি কিভাবে চলছেন। জবাবে অনেকটা কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, এই বৃদ্ধ বয়সেও নদী পার হয়ে দিনমজুরি করে যে ক’টাকা পায় তাই দিয়ে ২/১ বেলা খেয়ে চলছে কোনরকম তার পরিবার।

এভাবেই খেয়ে আর না খেয়ে চলছে এখানকার মানুষগুলোর জীবন। এসব অসহায় মানুষের একটাই দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য পুনর্বাসনের সাথে সাথে পূনরায় পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হোক।

এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসবেন বিবেকবান প্রতিটি মানুষ এবং সাধ্যমতো অসহায়দের কল্যাণে কাজ করবেন এমনই আশায় তীর্থের কাকের মতো প্রতিটি প্রহর গুনছেন বানের তোড়ে ভেসে বেড়ানো মানুষগুলো।

কেবি