বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন ঠেকাতে নানান কৌশল অবলম্বন করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের উদ্দেশ্য, যেকোন মূল্যে বিরোধী জোটকে দমন করে পূর্ণমেয়াদে ক্ষমতায় থাকবে সরকার।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে বিরোধী জেটাকে দমনে মহাজোট সরকার ও দল একই সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কোন অবস্থাতেই বিরোধী জোটকে ছাড় দিতে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। আর এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন তারা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন মোকাবেলায় দলীয়ভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন ১৪ দল। তারা বিরোধী জোটের আন্দোলন ঠেকাতে দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কমিটির নেতৃত্ব দিবে আওয়ামী লীগ। এরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করবে।
এ ব্যাপারে ১৪ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই কমিটি পাড়ায়-মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। সন্ত্রাস এমনিতেই কমে আসছে। এই কমিটির পর সন্ত্রাস নির্মূল হবে।’
বৈঠক শেষে আওয়মী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের শত্রুরা জঙ্গি ও জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করার জন্য আবার মাঠে নেমেছে। এসব খুনীদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। ১৪ দলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুনর্গঠন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা পর্যায়ে এই নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এমপিরা এলাকা থেকে নাশকতাকারীদের প্রতিরোধ করবে।’
দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি যাতে কোন বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবীত রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী ২ থেকে ৩ মাস সভা-সমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এরই অংশ হিসেবে গত ১৫ জানুয়ারি ১৪ দলের একটি বৈঠকে রংপুরের মিঠাপুকুর ও গাইবান্ধায় জেলার পলাশবাড়ীতে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি এ কর্মসূচি পালনও করেছেন তারা।
এছাড়াও ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চোরাগুপ্তা বোমা হামলা ও জঙ্গি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে ১৪ দলের উদ্যোগে গণসংযোগ, পথযাত্রা, শান্তি মিছিল এবং শান্তি সমাবেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচিগুলোও পালন করবেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিরোধী জোটের ডাকা অবরোধ-হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ডাক-ঢোল পিটিয়ে মাঠে থাকছে ক্ষমতাসীনদের নেতাকর্মীরা। তারা বিরোধী জোট সামান্যতম ছাড় দিতে চান না। যেকোন মূল্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা।
এদিকে বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে ও ব্যাপক ধড়পাকড় চালিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখছেন বিরোধী নেতাকর্মীদের। বিরোধী জোটের কোন নেতাকর্মীদের মাঠেও নামতে দেয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ছিলগালা করে রেখেছে পুলিশ। তাছাড়া কার্যালয়সহ এর আশপাশের এলাকার প্রতিটি অলি-গলিতে রয়েছে পুলিশি পাহাড়া। কার্যালয়ের সামনে সব সময় রাখা হচ্ছে জলকামান। এছাড়াও নয়া পল্টনে প্রবেশ পথ বিজয় নগর ও ফকিরাপুল মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোষ্ট।
অন্যদিকে গত ২২ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিককালে কিছু দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন যারবাহনে বোমা হামলাসহ ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা চালাচ্ছে। এ ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিক্যালস অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সালের ৫৫ নম্বর অধ্যাদেশ) এর ৮৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকার সারা দেশে মোটরসাইকেলে চালক ব্যতিত অন্য কোন যাত্রী বা সঙ্গী বহন এতদ্বারা নিষিদ্ধ করলো।’
এছাড়াও বিরোধী জোটের আন্দোলনের নামে নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশ। সে অনুযায়ী বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীগুলো।
গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়া সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের নেত্রী। বর্তমানে অনেক জায়গায় নাশকতা চলছে। জনগণের নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার তা সবই করবে সরকার।
গত ২৪ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, “বিএনপি যদি নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি দেশে আবারও সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আওয়ামী লীগের সবকিছু তাসের ঘরের মতো ভাঙবে না, তবে বিএনপি তাসের ঘরের মত তছনছ হয়ে যাবে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, দেশে বিরাজমান নাশকতা ঠেকাতে সারাদেশে যৌথ অভিযান চলছে। এ অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। দুস্কৃতিকারীদের ও এদের হুকুমদাতা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এমআর, জেএ





