বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মাঠে।

বৃহস্পতিবার ওই মাঠে বাংলাদেশ শ্রীলংকা ম্যাচ চলাকালে ' সেইভ বাংলাদেশ' নামে একটি সংগঠনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে দর্শক গ্যালারিতে অবস্থান করে কয়েকজন যুবক।

এতে লেখা ছিলো 'save bangladesh'-'stop extrajudicial killing'.

এসময় ওই যুবকরা খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি প্ল্যাকার্ডগুলো বার বার প্রদর্শন করে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বৃহস্পিতবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) শুরু হয় ২০১৫ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের লড়াই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে শুধু স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনই নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকেও এ ব্যপারে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

সবশেষ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এএইচআরসি) বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে নয়জন নিখোঁজ হয়েছেন যাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সাতজন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সর্বনাশ ঘটেছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। কাজেই আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নির্দেশদাতার দায় (কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি) তার। সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে ব্যর্থ হলে এসব অপরাধের জন্য অদূর ভবিষ্যতে তাদের দায় নিতে হবে।

সংস্থাটি স্পষ্ট করেই বলেছে- পুলিশের ডিবি, র‌্যাব ও যৌথবাহিনী এই ১৬ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তারা নিখোঁজ কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার সাতজন বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর তাদের লাশ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘বন্দুকযুদ্ধের’ কথা বলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এএইচআরসি জানতে পেরেছে যে উপরের ১৬ জন ছাড়াও আরো সাতজনকে জানুয়ারি মাসে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাদেরকে অনেক দিন পর মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে থাকা নারীদের ধর্ষণ করে বলে কুখ্যাতি আছে। বিরোধী দলের কর্মীদের নারী আত্মীয়রা এভাবে স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। নারীদের এভাবে নিখোঁজ হওয়ায় ঘটনায় সমাজে ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে।

এতে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তৃতা তুলে ধরে বলা হয় তিনি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অস্ত্র দেয়া হয়েছে কেন? হাডুডু কিংবা ডাঙ্গুলি খেলার জন্য? অস্ত্রের কাজ কি? এটা একটা বিপজ্জনক জিনিস। এর কাজ মানুষ মারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র দেয়া হয়েছে লোকদের হত্যার জন্য। লোকজনের নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা হলে তারা (পুলিশ) গুলি করবে। তাহলে কি ঘটবে? কিছু লোক নিশ্চয়ই মারা যাবে।’

এতে বলা হয়, বেনজীরের এই বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি শীতল বার্তা দিচ্ছে যে যাদের হাতে অস্ত্র আছে তারা মর্জিমাফিক হত্যা করতে পারে।

গত ৩১ ডিসেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০১৪ সালের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক আখ্যায়িত করে এক প্রতিবেদনে জানায়, শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৪৭ জন, আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১২৮ জন।

ইআর, জেএ,কেবি