ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগে চলছে রমরমা বাণিজ্য। জন প্রতি ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা দরদাম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তরা বিপাকে পড়েছে। এর আগে গত নিয়োগেও চাকরি প্রার্থীদের কাছে থেকে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁও জেলায় মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৯৮জন কনেস্টবল নিয়োগ দেয়া হবে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রাম পর্যায়ে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চাকরির দর উঠেছে ৯-১০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, এমপি ও বিশেষ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দেয়া তালিকা এসপির কাছে জমা হয়েছে বলে জানাগেছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান,তার আত্মীয়ের কাছে কনেস্টবল পদে চাকরির জন্য ৯ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। একই কথা বলেন, পার্শবর্তী এলাকার শরিফুল ইসলাম।

কনেস্টবল নিয়োগের দূর্নীতিকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদে ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক পুলিশ সুপার শাহ্ আব্দুর রহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ তুলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। তা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে। দফায় দফায় উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত টিম ঘুরে যায় এই জেলায়। পরে এ ঘটনায় শাহ্ আব্দুর রহিম চৌধুরীকে গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও ছাড়তে হয়। ঐ দিন ফারহাত আহমেদ পুলিশ সুপার হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে যোগদান করেন। আব্দুর রহিম চলে যাওয়ার পর আবারও পুলিশ কনেস্টবল নিয়োগ করা হয়। সেই নিযোগেও ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা রবিন সরেন অভিযোগ করে বলেন, ঘুষ বাণিজ্যের কারণে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠী(আদিবাসী) পুলিশের চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ঐ দূর্নীতির প্রতিবাদে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করে।

সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের আনছারি বেগম জানান, তার বোনের ছেলের কাছে চাকরির জন্য ৭ লাখ টাকা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু চাকরি হয়নি। একই অভিযোগ একাধিক চাকরি প্রার্থীর।

একই উপজেলার চিলারং গ্রামের ইয়াসিন আলী অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ ব্যক্তিদের তালিকা ও পুলিশের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্থ লিপসার কারণে যোগ্যরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এবারো জেলার বিশেষ ব্যক্তিদের তালিকা পুলিশ সুপারের(এসপি) কাছে জমা পড়েছে। এই তালিকায় নাম লেখাতে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সুযোগ নেয়া থেকে পুলিশের বিশেষ কর্মকর্তারাও বাদ পড়ছেনা বলে গুনজন ছড়িয়ে পড়েছে।

নিয়োগে দূর্নীতি, অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম প্রসংগে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মসিউর রহমান বলেন, তা প্রতিরোধে উচ্চ-পর্যায়ের টিম কাজ করছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, তালিকার বিষয়টি সঠিক নয়, টাকা লেনদেন এর বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে নিয়োগে যে কোন ধরণের অনিয়ম ঠেকাতে আমাদের লোকজন তৎপর রয়েছে।
এম এ