দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণায় ছটপট করছেন ফেনীর শাহাদাত হোসেন। তিনি এখন স্বাভাবিক মানুষের মত বাঁচতে চান। তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবার। ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছেন শাহাদাতের বাবা।
পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের চরকালিদাস গ্রামের জন্ম নেয় মো: শাহাদাত হোসেন। স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তার শরীরে ফাটল দেখা দেয়। তারপর ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । সেখানে দেড় মাস চিকিৎসা নেয়ার পর চিকিৎসকরা চর্মরোগ বলে ওষুধপত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়।
র্দীঘদিন সে ওষুধ খাওয়ার পরও শাহাদাত অপরিবর্তিত। তারপর অনেক ডাক্তার, কবিরাজের কাছে ঘুরতে ঘুরতে কেটে গেছে ১৪টি বছর। এখনো সেই অজানা রোগের যন্ত্রণায় ছটপট করছেন শাহাদাত।
শাহাদাতের মা জাহেদা বেগম জানান, সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও পরবর্তীতের তার শরীরে ফাটল দেখা দেয়। শরীরে ব্যথা ও চুলকানির কারণে ফাটল দিয়ে রক্ত বের হয়। তার চিকিৎসার জন্য সব কিছু বিসর্জন দিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। ওর বাবা অসুস্থ্যতার কারণে দুবাই থেকে ভিসা বাতিল করে দেশে চলে এসেছেন। এখন ছেলের ওষুধ কিনতে পারছেন না তিনি।
শাহাদাতের পিতা খুরশিদ আলম আইয়ুব বলেন, উন্নত ও দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার মাধ্যমে শাহাদাতকে সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। কিন্তু এত টাকা পাব কোথায়? তাই ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, চর্মের এক ধরনের প্রদাহের কারণে এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। পুষ্টিহীনতার কারণে রোগটি বেশি হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে চিকিৎসা অনেক দীর্ঘমেয়াদী।
শাহাদাতের এক চাচাতো ভাই(মোজাম্মেল হক) জানান, ছোট বেলায় তাকে ফরহাদনগর ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদরাসায় ভর্তি করানো হলেও অন্য শিক্ষার্থীরা ভয় পাবে বলে তাকে ক্লাস না করে বাড়িতে পড়াশোনা করানোর পরামর্শ দেন শিক্ষকরা। সে থেকে বাড়ির মক্তবে পড়াশোনা করছে শাহাদাত।
এএইচ





