গাজার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নুসাইরাত শরণার্থী শিবির। হঠাৎ ইসরাইলি বিমানের গোলা আঘাত করল শিবিরটিতে। এখানে পরিবারের অন্যদের সাথে বাস করেন সন্তানসম্ভবা নারী সীনা আলীসা।
যখন হামলা চলছিল, তখন তার প্রসব বেদনা উঠে। পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু একটি গাড়ির ব্যবস্থা করতে না পারায় হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলো এই নারীকে। ৩ ঘন্টা পর তাকে শরণার্থী শিবিরের হাসপাতলে নেওয়া হলো। অপরিপক্ক শিশুর ডেলিভারি করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরাকার, সেটা হাসপাতালে ছিল না।
এরপর নুসাইরাত শরণার্থী শিবির থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত আল শিফা হাসপাতালে নেওয়া হল সীনা আলীসাকে। এখানে জন্ম গ্রহণ করল তার ফুটফুটে কন্যা বাতুল। নিজের অভিজ্ঞাতা সম্পর্কে এই মা বলেন, " আমি বেশ আতঙ্কিত ছিলাম"।
সীনার পাশের বিছানায় শুয়ে আছেন ২১ বছর বয়সী রীমা আল-হাইওয়াতী। ৮ মাসের গর্ভবতী এই নারী বিমান হামলা শুরু হলে পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি।
একই হাসপাতালে নিজের নবজাতককে নিয়ে অবস্থান করছেন আসমা। তাকেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে জীবন বাজি রেখে হাসপাতলে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন," বিস্ফোরণের শব্দে মনে হচ্ছিল আমাদের কান ফেটে যাবে।" যাহোক, অবশেষে সুস্থ একটি ছেলে জন্ম দিয়েছেন আসমা।
ইসরাইলী হামলার কারণে আতঙ্কিত ডাক্তার ও নার্সরা ঠিকমতো হাসপাতালে আসতে পারছেন না। তাই অন্যান্য হাসপাতালের মতো আল শিফা হাসপাতালে সেবা প্রদান করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেসব কক্ষে একজন অথবা দুইজন গর্ভবতী নারীকে রাখার কথা, সেসব কক্ষে ৫ জনকে রাখতে হচ্ছে। এই হাসপাতালে নার্স সুমের সুলাইমান জানান, চলতি সপ্তাহে ৩ জন শিশু মারা গেছে।
যাহোক, এত কিছুর পরও ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এ সম্পর্কে সুমের সুলাইমান বলেন, " আমরা তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে পারি না"।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে দক্ষিণ ইসরাইলের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারের গাইনী বিভাগের প্রধান ডাক্তার ইয়াল এন্টিবাই বলেন, প্রতি মুহূর্তে মিসাইলের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসতে চায় না। আমরা দেখি যে, খুব কম রোগী জরুরী বিভাগে আসে। সূত্র: তেহরান টামস।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই





