ভবিষ্যত সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য সাংগঠনিক পূনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শ্রমিক দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ও ঢাকা মহানগরের নতুন আহবায়ক কমিটি করেছেন তিনি। শিগগিরই যুবদল ও কৃষক দলের নতুন কমিটি করার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অংগ সংগঠনকে পুনর্গঠনে হাত দেবেন দলীয় প্রধান।
কিন্তু যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনে অসন্তোষ আর কোন্দল দেখা দিয়েছে। কারণ সংগঠনের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছে বড় একটি অংশ। তাদের মতে, যুবদলের বাইরে থেকে কাউকে এনে সংগঠনের নেতৃত্ব দিলে তাতে হিতে বিপরীত হবে।
যুবদলের মধ্য থেকেই ভবিষ্যত নেতৃত্ব নির্বাচন করার জন্য বৃস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেয়। এ সময় যুবদলের আসন্ন নতুন কমিটিতে বর্তমান কমিটির মধ্য থেকে নেতৃত্ব দেয়ার দাবিতে স্লোগান দেন তারা।
এক পর্যায়ে তারা দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি জানান। মির্জা আলমগীর তাদের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে তা তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।
এতে নেতৃত্ব দেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সৈয়দ আবেদিন প্রিন্স, সোহেল আহমেদ, আহসান উল্লাহ, মঈনূল ইসলাম, সেলিম রেজা,রাসেল মিয়া, বাবলু প্রমূখ।
কেন্দ্রীয় কমিটির ওই নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুবদলের মধ্য থেকেই সংগঠনের নেতৃত্ব চাই। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে নেতৃত্ব দিলে আমাদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে। এ দাবি করেছি মহাসচিবের কাছে, কারণ এটি আমাদের অধিকার। যুবদলের আপদকালীন সময়ে আমরা ঝুঁকি নিয়ে দলের পাশে থেকেছি।’
তারা আরও জানান, দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের কাছেও আমাদের এই দাবির কথা বলা হয়েছে। এখন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি তুলে ধরা হবে।
এ বিষয়ে যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বর্তমান দলের সাংগঠনিক গতি বাড়াতে (ম্যাডাম) খালেদা জিয়া বিভিন্ন কমিটি পুর্ণগঠন করছেন। তারই অংশ হিসেবে যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তবে এই নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে সেটি দলের চেয়ারপারসন ভাল বুঝেন।
তবে যারা সংগঠনের মধ্য থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছেন তারা তাদের মতামত দিতে পারেন, কিন্তু সেটি কতটা বিবেচ্য তা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ ব্যাপারে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সংগঠনের ভিতর থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা যারা বলছেন তারা সঠিক কথাই বলছেন। কেননা বাইরে থেকে এনে যুবদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে সংগঠন পরিচালনা করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তবে দলের হাইকমান্ড মনে করলে বাইরে এবং ভিতর থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি দিতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, যারা সংগঠনের ক্ষতি করতে চায় তারাই বর্তমান কমিটির মধ্য থেকে নেতা নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু দলের প্রধান (দেশ নেত্রী) বেগম খালেদা জিয়া ভাল করেই জানেন কাদের হাতে নেতৃত্ব দিতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি যা ভাল মনে করেন যুবদল পুর্ণগঠনের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নিবেন।
উল্লেখ্য, যুবদলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১০ সালের ১ মার্চ। এ কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব।
ঢাকা, এমএইচ, ০৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





