পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঘেরা শহর মিরানশা-তে তালেবান বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তাই এলাকাটি ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে অন্য শহরগুলোতে পালিয়ে গেছে। এদেরই একজন রাশেদ রহমান। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার দৃষ্টিতে, ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ক্রেতা হলো তালেবানরা।

বিবিসি'র সাংবাদিকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "আমার কাপড়ের গন্ধের জন্য আমি দু:খিত। মিরানশাহ'তে আমি রাজপুত্রের মতো বসবাস করতাম"।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানী হলো মিরানশা। এটি আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এই মিরানশা'র মূল বাজারে রাশেদ রহমানের একটি বড় দোকান ছিল। দোকানে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী পণ্য, মোজা এবং কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য বিক্রি করা হতো।

রাশেজ জানান, প্রতিদিন তিনি ১০০,০০০ থেকে ১১৫,০০০ রুপি আয় করতেন। আর তালেবানরা ছিল তার পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। কেনাকাটা করতে আসলে তারা একসাথে অনেক কিছু কিনত। জিনিসপত্রের দাম কমানোর জন্য কোনো তর্ক করত না।

তালেবানদের পছন্দের তালিকা:

ব্যবসায়ী রাশেদ রহমান বলেন, তালেবানরা বিদেশী অথবা ব্রান্ডের পারফিউম বেশি পছন্দ করে। তাদের পছন্দ কড়া ঘ্রানের পারফিউম। তালেবানদের প্রিয় প্রসাধনীগুলো হলো- ডোভ সাবান, হেড এন্ড শোল্ডার স্যাম্পু, ক্লিয়ার স্যাম্পু; পারফিউমের মধ্যে সিক্রেট লাভ এবং ব্লু লেডি।

একজন দর্জি যা বললেন

সোহায়েল মসীহ মিরানশাহে'র একজন দর্জি। তার দৃষ্টিতেও তালেবানরা ভালো মানের ক্রেতা। কাপড় কিনতে আসলে তারা এক ধাক্কায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ রুপি খরচ করতো।

তিনি বলেন, "তারা বড় সাদা গাড়িতে আরোহন করে আমার দোকানে আসত। গাড়ির কাচের রং ছিল সাদা-কালো মিশ্রিত। অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে তাদের মাঝে কোনো অস্বস্তি ছিল না। তারা যে ধরণের পণ্য ক্রয় করত, আমার মতো সামর্থ্যবান মানুষ সেগুলো কেনার কল্পনা করে না।"

লেখাটি টাইম নিউজের পাঠকদের জন্য তৈরী করা হয়েছে বিবিসি'র ফিচার শপিং সিক্ট্রেটস অফ দি তালিবান রিভিল্ড অবলম্বনে।

ঢাকা, জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই