হটাৎ করে দেশের সবগুলো পিস স্কুল বন্ধ হয়ে যা্ওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকেরা। শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারছেন না দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায়। পরবর্তীতে শিক্ষা কার্যক্রম কোথায় চালাবেন সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না তারা। এমন অবস্থায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।

গত মাসে রাজধানী গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িত দুই জঙ্গি সদস্য জাকির নায়েককে অনুসরণ করত- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। তার পর গত ২ আগষ্ট দেশের সব পিস স্কুল বন্ধেন নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে শিক্ষার্থীদের এখন কী হবে, তাদের দায়িত্ব কে নিবে তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন ‘‘এদের (শিক্ষার্থী) দায়দায়িত্ব সরকার নিবে না, যারা তাদেরকে এই পথে নিয়ে এসেছে তারাই দায়দায়িত্ব নিবে।এ স্কুল গুলো জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করে”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সবগুলো স্কলের ফটকে ঝুলছে তালা। লেখা আছে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ। আবার কেউ কেউ নতুন নামে আসার কথা বলছে। তবে, সেক্ষেত্রে কতটা সময় লাগবে বা আদৌ অন্য নামে আসতে পারবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

রাজধানীর মালিবাগ পিস স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক উম্মে-রুনো টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমার ছেলেকে বুক ভরা আশা নিয়ে পিস স্কুলে ভর্তি করেছি যাতে বাংলা ইংরেজীর পাশা পাশি আরবী্ও শিখতে পারে।কিন্তু সরকার হঠাৎ করে স্কুল বন্ধ করে দিল। গত ৮ই আগষ্ট থেকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমন অবস্থায় আমরা কোথায় যাব? এখন অন্য কোন স্কুলেও ভর্তি করতে পারবো না। আমার বাচ্চাকে ছয় মাস লেখা পড়ার বাহিরে থাকতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিবাবক বলেন, সরকারও তো চায় ছেলে মেয়েরা প্রকৃত ধর্ম শিক্ষালাভ করুক। এক্ষেত্রে পিস স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমে কোন ঘাটতি থাকলে সরকার সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিক। কিন্তু হঠাৎ করে সব স্কুল বন্ধ করে দেয়া কিছুতেই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। মাঝ নদীতে এসে এখন আমারা কোথায় যাব?

আরেক অভিবাবক ইউসুফ রানা বলেন, সরকার স্কুলটি চালু রেখে তদারকি করুক, না হয় আমাদের সন্তানদের এই ছয়মাস পড়ার সুযোগ দেওয়া হোক, বছর শেষ হলে আমরা অন্য স্কুলে ভর্তি করব।

রাজধানীর মালিবাগ ও লালমাটিয়ায় পিস স্কুলে গিয়ে দেখা গেল মেইন গেটে তালা দেওয়া। কথা বলার জন্য স্কুলের কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পিস স্কুল মালিবাগ এর প্রতিষ্ঠাতা নুরুজ্জামান ফিরোজ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, প্রাণের চেয়েও প্রিয় এই দেশ মাতৃকাকে কিছু ভাল মানুষ উপহার দেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলাম পীসস্কুল- মালীবাগ। ভেবেছিলাম জীবনের শেষ ক'টা দিন শিশুদের নিয়ে হৈচৈ আর আনন্দ করে কাটিয়ে যাবো। ধর্মান্ধ মৌলবাদ বা উগ্র জঙ্গিবাদকে আমাদের ধর্ম সমর্থন করে না। তাই শিশুদেরকে প্রকৃত ও নির্ভেজাল ধর্মীয় অনুভূতি শিক্ষা দেয়া হয় অত্র প্রতিষ্ঠানে।

বলা হয়, জাকির নায়েকের সাথে এর সম্পর্ক কি? কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমরা কোনো দিন আমাদের কোনো কথা, প্রকাশনা বা টেলিফোনে কাউকে বলেছি যে, তার (জাকির নায়ক) সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ আছে। এটি সর্ম্পূন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

পীস নাম দেয়ার কারণ কি? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মাথায় ছিলো "শান্তি বিদ্যালয় যা ইংলিশে পীসস্কুল"। হ্যা, পিসটিভি একটি চ্যানেল, তাতো কোনো স্কুলের নাম নয় আর পীসস্কুল নামে জাকির নায়েকেরও কোনো স্কুল কোথাও নেই। তার স্কুলের নাম অন্য কিছু। লোগোটা কাছাকাছি করা হয়েছিলো ব্রান্ডিং এর জন্য।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাতো দায়িত্ব নিয়েই পড়াচ্ছিলাম। তা ব্যহত হওয়ার দায় আমি কিভাবে সামলাবো? ১০তারিখ থেকে ২য় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। রমজান ও ঈদ থাকায় গত ২মাস যাবৎ অনেকেরই টিউশন ফী বকেয়া, যা এই পরীক্ষার আগে অভিভাবকগণ পরিশোধ করতে চেয়েছেন।

এখন শিক্ষক ও স্টাফদের বকেয়া বেতন, বাড়ীভাড়া এসব কিভাবে পরিশোধ করবো? যদি অভিযুক্ত হয়েই থাকি, তা স্পষ্ট করে সংশোধনের জন্য সময় দেয়া যেতো, কোনো শর্তারোপ করে ডিসেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেয়া যেতো।

তবে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমোদন না পেলে নিজ দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করে দিব।

 

এমবিএইচ/কেবি