জগতে এত কর্ম থাকতে বেশ্যাবৃত্তি কেন? এটা কি আসলেই জরুরী? বিতর্কিত এই উপার্জনের মাধ্যমটি যখন থেকে ‘পেশা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে, তখন থেকেই এসব প্রশ্নও ঘুরে ফিরে সামনে আসছে বার বার। তবে, সম্প্রতি বেশ্যাবৃত্তির বিষয়টি আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বদৌলতে।

বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার ইস্যুতে নেতৃত্ব প্রদানকারী মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রহস্যজনক কারণে বেশ্যাবৃত্তিকে একটি ‘নিরপরাধ’ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অবাধ যৌনাচারের পথ প্রশস্ত করতে যেন আদাজল খেয়ে নেমেছে। সংগঠনটি বেশ্যাবৃত্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরপরাধ’ (decriminalization) হিসেবে ঘোষণা দিতে শিগগিরই বৈঠকে বসছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একটি সূস্থ সমাজ বিনির্মানের মূলভিত্তি শান্তিপূর্ণ পারিবারিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন যৌন খদ্দেরদের ওপর আর্থিক জরিমানাসহ নানা ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন অ্যামনেস্টির মতো একটি আন্তর্জাতিক-স্বীকৃত মানবাধিকার সংগঠনের এমন উদ্যোগে হতাশা প্রকাশ করেছেন নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ।

এদিকে, সমাজ সভ্যতা ধ্বংসকারী অবাধ যৌনাচার ঠেকাতে ১৯৯৯ সালে সুইডেনে গৃহিত নীতিমালার সুফল পর্যালোচনা করে এরই মধ্যে ফ্রান্স, বৃটেন এবং আয়ারল্যান্ড সরকার বেশ কিছু নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। অপরদিকে, একধাপ এগিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং কানাডা নতুন আইন প্রনয়ন করেছে। আর এসব পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো পতিতালয়ে গমণকারীদের ওপর জরিমানা আরোপ।

তবে, নারী যৌন কর্মীদের কিছুটা ছাড় দিয়ে শুধুমাত্র পুরুষ খদ্দেরদের ওপর শাস্তির খড়গ আরোপ কতটা যুক্তিযুক্ত হবে-এ নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, তখনই একেবারে ভিন্ন পথে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই মানবাধিকার সংগঠনটি গোটা বেশ্যাবৃত্তি পেশাটিকেই ‘নিরপরাধ’ কর্ম হিসেবে আখ্যা দিয়ে যৌন কর্মী ও খদ্দের-উভয়কেই যেন রক্ষার ‘মহান’ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে।

চলতি আগস্ট (২০১৫)-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডের সর্ববৃহত শহর ও রাজধানী ডাবলিনে ৮০টি দেশের প্রায় ৫০০ প্রতিনিধিদের নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সেখানে বেশ্যাবৃত্তির ক্ষেত্রে আরোপিত সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা বাতিলের বিষয়ে প্রতিনিধিরা ভোট দিবেন। প্রাপ্ত বয়স্ক কাউকে তার ইচ্ছামতো যৌন কার্য সম্পাদন করতে না দেয়া এবং এটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে যৌন কর্মীদের মানবাধিকার লঙ্খিত হচ্ছে-এমন যুক্তি তুলে ধরে প্রতিনিধিদের ওই সম্মেলনে মতামত প্রদানের আহবান জানানো হবে।

এ ধরনের খোঁড়া যুক্তিতে অ্যামনেস্টির মতো সংগঠনের এই আয়োজনে এরই মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নারীবাদী সংগঠন। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রভাবশালী নারী পাচারবিরোধী কোয়ালিশন (Coalition Against Trafficking in Women)।

এছাড়া অনেক বিখ্যাত তারকাও অ্যামনেস্টির প্রতি তাদের বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন-বহু পুরস্কারে ভূষিত ‘এঞ্জেলস অব আমেরিকা’-খ্যাত অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ (Meryl Streep), হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী ও গায়িকা কেটি উইনসলেট (Kate Winslet) এবং আমেরিকার প্রখ্যাত নারীবাদী, সামাজকর্মী এবং সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টেইনেম (Gloria Steinem)।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে “ধরি মাছ, না ছুঁই পানি”-কায়দায় খানিকটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানালেন অ্যামনেস্টির আমেরিকা অঞ্চলের সাবেক বোর্ড মেম্বার এবং ইলিনয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ফ্রাংকিস এ বইল (Francis A. Boyle)। তিনি বলেন, বেশ্যাবৃত্তিকে সবসময় একটি জাতীয় বিষয় হিসেবেই গণ্য করা হয়। অ্যামনেস্টি এখন বিষয়টিকে প্রশস্ত করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিষয়ে পরিনত করতে যাচ্ছে। এটা একটা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ অগ্রগতি।

তবে, অ্যামনেস্টির প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে অধ্যাপক বইল বলেন, কেন এত বড় পরিসরের প্রস্তাবনার (resolution) উদ্যোগ নিল সংগঠনটি তা তার কাছে বোধগম্য নয়। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে সবকিছুই যে মৌলিক নীতিমালাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়া উচিত তা হলো “নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষা”। আমাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে, যৌন কর্মকে নয়।

পতিতালয়ে গমনকারী খদ্দেরদের ওপর জরিমানা ধার্য করতে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে গত জুনে (২০১৫) ফ্রান্সের ন্যাশনাল এসেম্বলি সম্মতি দেয়। অবশ্য কংগ্রেসে চূড়ান্ত ভোটের পরই এই আইনটি পাস হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এছাড়া গত মাস (জুন-২০১৫) থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে যৌন খদ্দেরদের ক্ষেত্রে ১হাজার পাউন্ড বা প্রায় ১৫শ ডলার জরিমানা এবং বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানার বিধান কার্যকর করা হয়েছে। কানাডায়ও এ বছর থেকে একই ধরনের আইনের প্রয়োগ শুরু হয়।

এদিকে, সুইডেন বা নরওয়ের আদলে যৌনাচারকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়ে বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিবিদরাও বেশ জোরেশোরে আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন।

এখন থেকে প্রায় দেড় যুগ আগেই সুইডেনে যৌন খদ্দেরদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। আর এরই বদৌলতে ১৯৯৫ সালের তুলনায় সুইডেনের শহরগুলোতে ভাসমান পতিতাবৃত্তির (street prostitution) হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। চলতি বছরে (২০১৫) সুইডেন সরকারের এক জরিপে বলা হয়, সুইডেনে ৯০এর দশকে বর্তমান সময়ের চেয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি পুরুষ যৌনকাজে অর্থ ব্যয় করতেন।

তবে, জন্মের পর থেকেই অবাধ যৌনাচারের অনেকটা পক্ষেই অবস্থান ছিল অ্যামনেস্টির। তবে, বিষয়টি কখনই এত খোলামেলা ছিল না। মূলত রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার বিষয়টিকে সামনে রেখে ১৯৬১ সাল প্রতিষ্ঠালাভ করলেও নানা বিষয়েই অ্যামনেস্টি তার মতামত প্রকাশ করে আসছে।

একেবারেই শুরুর দিকে অ্যামনস্টির একটি গোপণ প্রস্তাবনা ফাঁস হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ওই গোপণ দলিলে বলা হয়, যৌন আকাংখা একটি মৌলিক প্রয়োজন এবং যৌন খদ্দেরদের শাস্তি দেয়া হলে তা হবে কারো ব্যক্তিসত্ত্বায় আঘাতের শামিল। একইসাথে এটা স্বাধীন মত প্রকাশ ও স্বাস্থ্য অধিকারকেও খর্ব করবে বলেও দাবি করা হয় দলিলে।

অ্যামনেস্টির দলিলে আরও বলা হয় যে, যেসব খদ্দের নিজেদের যৌনাচার প্রকাশকে নিরাপদ মনে করেন, শারিরীক ও মানসিকভাবে তাদেরকে সুস্থ রাখতে হলে এ পথকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, এ ধরনের মানুষেরা যৌন কর্মীদের সাথে তাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে মূল্যায়ন করে থাকেন এবং নিজেদের চিন্তাকে শক্তিশালী করার প্রয়াস পান।

ফ্রান্সের দেহ ব্যবসায়ীদের সাথে অনেকটা সুর মিলিয়ে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এমনও যুক্তি দিচ্ছে যে যৌন খদ্দেরদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হলে তা পতিতাবৃত্তিকে আরও আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাবে। এর ফলে যৌন কর্মীদের বর্তমান বেহাল দশা বিপদজনক স্তরে রুপ লাভ করবে।

তবে, যে বিষয়টি অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো মানবপাচার, বিশেষ করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য নারী পাচার এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক রুপ ধারন করেছে যে অনেক সময়ই বহু নারী নিজের জীবন বাঁচাতে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এ পরিস্থিতির জন্য অবাধ যৌনাচার তথা যৌন ব্যবসা মূলত দায়ী। মানবপাচারকে এ কারণেই পোপ ফ্রান্সিস বিশ্ব মানবতার জন্য “প্লেগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মানবপাচারে জড়িতদের কঠোর শাস্তিদানে আইন প্রণয়ন এবং ভিকটিমদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসারও আহবান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বেশ্যাবৃত্তিকে ‘নিরপরাধ’ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অ্যামনেস্টির এই নতুন অবস্থানের ফলে এই সংস্থায় অর্থ প্রদানকারী ২০ লাখ সদস্যের অনেকেই মর্মাহত হতে পারেন বলেও অনেকের ধারনা।

কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করেছেন যে, বেশ্যাবৃত্তি নিয়ে অ্যামনেস্টির এই অবস্থান সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়াটি মূলত লন্ডনে সংস্থাটির হেড অফিসে গৃহিত হয়। গত দুই বছরে এই ড্রাফটিতে কয়েক দফা সংশোধন আনা হয়। এক পর্যায়ে পতিতাদেরকে ‘নিরপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়। সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের সভার কার্যবিবরনি থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে প্রয়োজনে তারা এই ড্রাফটে আরও সংশোধনী আনবেন। তবে, এটার চূড়ান্ত কপি প্রকাশ করা হবে না, কারণ এটা সংস্থাটির একটি একান্ত অভ্যন্তরীণ ডকুমেন্ট।

এদিকে, অ্যামনেস্টির লন্ডন শাখার মুখপাত্র স্কাজ জ্যাগো অবশ্য দাবি করছেন যে, অবাধ যৌনাচার রোধে সুইডেনের গৃহিত মডেলের সাথে অ্যামনেস্টির পলিসি খুব একটা সাংঘর্ষিক নয়; বরং অনেক পয়েন্টেই মিল রয়েছে। অ্যামনেস্টি ওই নীতিমালাকে কখনই খাটো করে দেখে না বলেও দাবি স্কাজের।

তিনি বলেন, আমরা দেহ ব্যবসাকে ‘নিরপরাধ’ কর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করার কাজটি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে করতে চাই, যা নরওয়ে মডেল থেকে ভিন্ন। এ কাজটি করতে গিয়ে অনেক মডেলের আদি অন্ত খতিয়ে দেখেছি বলেও দাবি স্কাজের।

অ্যামনেস্টির লন্ডন শাখার মুখপাত্র স্কাজ আরও বলেন, আগামী সপ্তাহের সম্মেলনে অধিকাংশ প্রতিনিধি যদি বেশ্যাবৃত্তিকে ‘নিরপরাধ’ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে মত দেন, তাহলেই কেবল অ্যামনেস্টির বোর্ডে এটি চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে।

তবে, এই অবস্থানের ফলে তাৎক্ষণিক কোন রেজাল্ট পাওয়া যাবে না মনে করেন স্কাজ। কিন্তু সংগঠনটির অফিসিয়াল অবস্থান তখন বেশ্যাবৃত্তিকে ‘নিরপরাধ’ কর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দানের পক্ষে চলে যাবে এবং এই নীতির আলোকেই সংগঠনটি বিভিন্ন দেশে কর্মকান্ড পরিচালনা করবে বলে মন্তব্য তার।

এদিকে, বিভিন্ন নারীবাদী গোষ্ঠী অত্যন্ত কড়া ভাষায় অ্যামনেস্টির এই অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো-এর মধ্য দিয়ে পতিতালয়গুলো অবাধ স্বাধীনতা পাবে। আর পতিতালয়ের মালিকেরা নতুন উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন গরীব দেশ থেকে নারী পাচারের কাজে নেমে পড়বে। সক্রিয় হয়ে পড়বে মানবতা ধ্বংসকারী মানবপাচার চক্রের সদস্যরা। গরীব দেশের অসংখ্য নারীর ভাগ্যে জুটবে পতিতালয়ের গর্হিত জীবন, যার কবল থেকে তাদেরকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন “এখনই সমতা (Equality Now)” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক অ্যামনেস্টি সদস্য জেসিকা নিউইথ (Jessica Neuwirth) বলেন, এটা এক ধরনের শঠতা ও ভন্ডামি। এর মধ্য দিয়ে মানবাধিকারের পুরো ধারনাই পাল্টে যেতে পারে। এর ফলে পুরুষরা শুধুমাত্র যৌনতার জন্য তাদেরই স্বজাতির অপর সদস্যদের অবাধে দাস-দাসীর মতো ক্রয় করার সুযোগ পাবেন।

জেসিকার মতে, অনেকেরই সন্দেহ অ্যামনেস্টির এই ধরনের প্রস্তাবনা প্রণয়নের সাথে তথাকথিত যৌন ব্যবসার (sex industry) কর্তা ব্যক্তিদের হাত থাকতে পারে।

লন্ডনে পতিতাদের নেত্রী “English Collective of Prostitutes in London”-এর মুখপাত্র নিকি অ্যাডামস অবশ্য অ্যামনেস্টির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত সবাইকে ‘নিরাপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দানে তার সংগঠনের পক্ষ থেকে অ্যামনেস্টির লন্ডন ও স্কটল্যান্ড শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত নারী প্রতিনিধিদের এই সংগঠনটি আন্তর্জাতিক আদালতে এ মর্মে একটি পিটিশান দায়েরেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান নিকি।

তবে, সাবেক অনেক পতিতার মতে এটা এক ধরনের প্রতারণা বই আর কিছুই নয়। আয়ারল্যান্ডের সাবেক আলোচিত পতিতা এবং বিখ্যাত “পেইড ফর (Paid For) বইয়ের লেখিকা রাসেল মোরান (Rachel Moran)অ্যামনেস্টির এ ধরনের প্রস্তাবনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

পতিতা হিসেবে আয়ারল্যান্ডে কাটানো সাত বছরের মর্মান্তিক জীবনের ঘটনা প্রবাহ এবং এই অনিশ্চিত ও গর্হিত অন্ধকার জগত থেকে ফিরে আসার কাহিনী নিয়ে লেখা “পেইড ফর” বই দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড়সৃষ্টিকারী এই মানবাধিকার কর্মীর মতে, পতিতাবৃত্তিকে ‘নিরপরাধ’ কর্মের মর্যাদা দেয়ার অর্থ হলো এর ব্যাপক সয়লাবের রাস্তা খুলে দেয়া।

রাসেল মোরানের মতে, অবাধে পতিতাবৃত্তির সয়লাবের অর্থ হলো নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীর জন্ম লাভ, নতুন নতুন নারী অপহরণকারীর উত্থান লাভ যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

রাসেল মোরান যুক্তি দিয়ে বলেন, নেভাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড, জার্মানিসহ পৃথিবীর যেখানেই অবাধ যৌনাচারকে উস্কে দেয়া হয়েছে, সেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশেষ করে নারীর অধিকার মারাত্মকভাবে খর্ব হয়েছে, পদে পদে বিকৃত রুচির পুরুষের লালসার শিকার হতে হয়েছে অসহায় নারীদের। (তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও ইন্টারনেট)

কেবি