৫ জানুয়ারি, ২০১৪ যে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তাতে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে তাদের সংশয় ছিল। ফলে ওই নির্বাচনে সংসদের অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা জিতেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

নির্বাচনের দিন নিহত হন ২১ জন। পুড়িয়ে দেয়া হয় শতাধিক স্কুলের ভোট কেন্দ্র। নির্বাচনের সময় থেকেই বিএনপি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে হরতাল, ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে।

৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য সমমনা দলগুলোকে বাইরে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ।

এ সময় বিশ্ব নেতাদের অনুরোধকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে দলটি। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ যা গণমাধ্যমে ‘কলঙ্কিত নির্বাচন’ নামে শিরোনাম হয়।

বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা এ নির্বাচনকে মেনে নেননি। তারা সকল দলকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য বরাবরই তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট।

তবে নানা রহস্যের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করেছি বলে মন্তব্য করেছিলেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবেই সরকার গঠন করুকনা কেন কোন মতেই থেমে নেই তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবার্ট, সড়ক, স্কুল, কলেজ ও ফ্লাইওভার নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যহত রেখেছে।

এছাড়াও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের অন্যতম স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তবে সরকারের এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েও রাজনৈতি মহল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মহলের মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা।

সরকার বিরোধীরা প্রায়ই বলে থাকেন অনির্বাচিত সরকার জনসমর্থন আদায়েরে জন্য এসব উন্নয়ন করছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা বিপর্যয়ের জন্য সরকারই দায়ী। সরকার মানুষের অধিকার হরণ করছে এবং নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ফলে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ উল্ল্যেখ যোগ্য হারে বাড়ছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমনই হোকনা কেন এ নিয়ে সাধারণ জনতার মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত ও ভাবনা। দেশের মানুষ চায় সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

 রাজধানীর মিরপুরে সরকারী বাঙলা কলেজর স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রনি বলেন, 'সরকার সংবিধান মেনে নির্বাচন করেছে এবং সকলকেই এ নির্বাচনে আহবান করেছে, কিন্তু কেউ না আসলে কিছু করার নেই।

সরকারের উন্নয়ন চোখে পরার মত, এতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে সকলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা কম ছিল।'

মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক(সম্মান) প্রথম বর্ষের অপর এক শিক্ষার্থী রিপন হোসাইন বলেন, 'আমরা চাই দেশে জনগণের নির্বাচন, যে নির্বাচনে সকল দল অংশ গ্রহন করবে। আমি প্রথম ভোটার হয়েও নিরাপত্তাহীনতার করণে ভোট দিতে পারিনি।

বার বার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছ। ফের যেন কোন বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য সরকারের উচিৎ পুণরায় সকল দলের অংশ গ্রহনে শীঘ্রই একটি নির্বাচন দেয়া।

সরকার উন্নয়ন করছে ঠিকই, তবে আমরা চাই ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার নির্বাচন করতে। দেশ স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্বাচনের বিকল্প নেই।'

মুদি ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন বলেন, 'সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর কারণে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। এতে মানুষ ভোগান্তিতে আছে।

এছাড়া আমাদের বেচাকেনাও আগের মত হয়না। শুধু উন্নয়ন নয় জনগণের সকল বিষয় সরকারকে চিন্তা করা উচিৎ।'

এমকে