বাইরে যখন তীব্র গরম, তখন দেহের ভেতরেও তৈরি হয় বাড়তি তাপ। সব মিলিয়ে গরমে মানুষের ভোগান্তি পৌঁছায় চরমে। ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, কাজে অমনোযোগ- কী নেই সে তালিকায়!

এ সময় প্রচুর ঘামের কারণে একটু ক্লান্তি, একটু অলসতা মানুষকে কাবু করে দেয়। এ জন্য প্রকৃতি যখন অগ্নি ঝরায় তখন আপনি তৃঞ্চা নিবারণের জন্য ছুটে যাচ্ছেন ফুটপাতের কোনো ভাসমান শরবতের দোকানে।

কি পান করছেন আপনি সে সব ভাসমান দোকানে? গ্লাসে চুমুক দেয়ার আগে একটু ভেবেছেন কি?

শরবতে এমন সব লোভনীয় ফল মূল একসাথে পাচ্ছেন যা দেখলেই পান করতে মন চাইবে যে কারো। কাগজি লেবু, তেঁতুল, বেল, কমলা, আপেল, খেজুর, ভেষজ উপাদান ইসবগুল, ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা) তোকমা প্রভৃতি দিয়ে শরবত তৈরি করছে ফুটপাতে দাড়ানো লোকটি।

গুলিস্তানের বাস স্ট্যান্ডে শরবত বিক্রি করে মো: সাইদুল। গ্রামের বাড়ী নোয়াখালীর চাটখিল। এইচ এসসি পাস করার পর পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে আর পড়ালেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। সাইদুল পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় এসে প্রথমে রিকসা চালানো শূরু করে, শারীরিক অক্ষমতা ও পারিবারের ব্যয় মেটাতে না পারায় এক মুরুব্বীর পরামর্শে শরবত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এখন ভালই চলছে তার পরিবার।

চাটখীলের সাইদুলের মত আরো অনেক বেকার যুবক রাজধানীর পার্ক,বাস স্ট্যান্ড সহ জনবহুল স্থানে শরবত বিক্রির মাধ্যমে তাদের পরিবারের হাল ধরেছেন ঠিকই। কিন্তু এই শরবত তৈরিতে সাইদুলরা কি স্বাস্থ্য সম্মত পালীয় পরিবেশন করছেন? একটু দৃস্টির দিলেই আড়ালে নয়।

টাইমনিউজ বিডির এর সাথে কথা হয় অফিস কর্মচারী সিদ্দীকের সাথে। সিদ্দীক সাহেব আপনি কি জানেন এই শরবত কিকি উপাদানে তৈরি? ‘ভাই গরমে খাই ভাল লাগে, অনেক জিনিস একসাথে দামও কম, লোকজন খাই আইও খাই’।

এই শরবত বিক্রি করে সাইদুলের মত কিছু লোকের কর্ম-সংস্থান হচ্ছে; আর সিদ্দিকের মত সাধারণ কর্মচারি বা সাধারণ লোকের তৃঞ্চা ও নিবারণ হচ্ছে।

এসব শরবতের প্রধান উপাদান নির্ভেজাল খোলা পানি, সাথে থাকে বরফের টুকরো যা ক্ষয়ে ক্ষয়ে পানির সাথে মিশে তৈরি হয় শীতল পানীয়ে। বরফ তৈরি হচ্ছে খোলা পানি দিয়ে ।যা মাছ-মাংশ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর শরবতকে রসাত্নক করে তোলার জন্য চিনির পরিবর্তে ব্যবহার হয় চাকারিন, অপরিস্কার পাত্র, রাস্তার ধোলা বালিতো আছেই।

এমুহূর্তে গরমের তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে তৃঞ্চা নিবারণে খোলা শরবত খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ফলে অফিসে কাজের ব্যস্থতার মাঝে তৃঞ্চা মিটানোর চেয়ে কর্মকামাইয়ের পরিমানটা নেহায়েৎ বাড়ছে।

এতে করে নিজের অজান্তে বহু রোগের জীবানু প্রতিনিয়তই নিজের শরীরে অবাধে ঢুকার ব্যবস্তা করছে সাধারণ মানুষ। যা প্রাথমিক পর্যায়ে জানতে না পারলেও ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা ও হেপাটাইটিস 'এ' এবং 'ই'র মতো রোগগুলো বহন করছে পরবর্তীতে।

চিকিৎসকদের মতে সব বয়সের মানুষের ডায়রিয়া হলেও শিশুদের জন্য এটি একটি বিশেষ গুরুতর। প্রতিবছর ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু ডায়রিয়া এবং এর সাথে সর্ম্পকিত অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে। যার জন্য প্রধানত দায়ী দূষিত পানি।

চিকিৎসকেরা মনে করছেন এসব অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় পানীয় খেলে কমে যেতে পারে আপনার শুক্রাণুর পরিমাণ৷ কারণ কোন খাবারে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকলে, সে খাবার খেলে পুরুষদের শুক্রানু-র পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে।

এমএ/ইআর