বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকা টেস্টও জমে ওঠেছে। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টির দুদিন যেতে না যেতেই ক্ষণে ক্ষণে ম্যাচের রঙ বদলেছে। এক হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে অন্য হাতে। এমন রঙ বদলের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার দিন শেষে ৭ উইকেট হাতে রেখে ১২৮ রানে এগিয়ে রয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। যদিও দিনের শেষ বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে হারানোর আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড আদিল রশিদ ও ক্রিস ওকসের দৃঢ়তায় ২৪৪ রান তোলে ২৪ রানের লিড নেয়। ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করে ১২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ।
২৪ রানে পিছিযে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। উদ্বোধনী জুটিতে এই দুজন ৬৫ রান তুললে দারুণ ভিত পায় টাইগাররা। তবে তিন বলের ব্যবধানে তামিম ও মুমিনুল হক ফিরে গেলে বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। জাফর আনসারির করা ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে কুককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে তামিম।
এরপর ফের হোঁচট খায় বাংলাদেশ। তামিম ফিরে যাওয়ার দুই বল পর মুমিনুল হক সাজঘরে ফিরলে চাপের মুখে পড়ে টাইগাররা। মাত্র ১ রান করে বেন স্টোকসের বলে কুককেই ক্যাচ দিয়ে তামিমকে অনুসরণ করেন মুমিনুল।
৬৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে কক্ষপথে ফেরান ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন ৮৭ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন। তবে আনসারির করা দিনের শেষ ওভারের শেষ বলে মাহমুদউল্লাহ বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
তামিম ৪৭ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দিন শেষে ইমরুল ৫৯ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন ৪৭ রান করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে জাফর আনসারি দুটি ও বেন স্টোকস নেন একটি উইকেট।
এর আগে শনিবার ৩ উইকেটে ৫০ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের বোলিং তোপে পড়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংল্যান্ড। দলীয় ৬৪ রানের মাথায় মিরাজের বলে মঈন আলির বোল্ড হওয়ার মধ্য দিয়ে ইংলিশদের পতনের শুরু। পাঁচ রানের ব্যবধানে তাইজুলের বলে মুমিনুলের দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের নায়ক বেন স্টোকস ফিরে গেলে চরম বিপদের মুখে পড়ে সফরকারীরা।
৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে ইংল্যান্ডকে টেনে তুলেন জোর রুট ও জনি বেয়াস্টো। এই দুজন ৪৫ রানের জুটি গড়লে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে ইংলিশ শিবির। তবে দলীয় ১১৪ রানের মাথায় বেয়ারস্টোকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে আনসারিকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন রুট। তবে ১৪০ থেকে ১৪৪- এই ৪ রানের ব্যবধানে আনসারি ও রুটকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তাইজুল ও মিরাজ।
তবে এরপরের গল্পটুকু আদিল ও ওকসের; সেইসঙ্গে বাংলাদেশের হতাশারও। নবম উইকেটে এই দুজন ৯৯ রানের অবিস্মরণীয় এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের লিডের স্বপ্ন চূর্ণ করে দেন। আদিল-ওকসের দৃঢ়তায় লিড নেয় সফরকারীরা। পরে পাঁচ বলের ব্যবধানে ওকস ও স্টিভেন ফিনকে আউট করে ইংল্যান্ডকে ২৪৪ রানে গুটিয়ে দেন তাইজুল-মিরাজ।
ইংল্যান্ডের হয়ে জো রুট ৫৬, ওকস ৪৬ ও রশিদ করেন ৪৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ৬টি, তাইজুল ইসলাম ৩টি এবং সাকিব আল হাসান নেন ১টি উইকেট।
এর আগে তামিমের সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের হাফসেঞ্চুরি সত্ত্বেও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে ২২০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম ১০৪ ও মুমিনুল করেন ৬৬ রান। ইংল্যান্ডের হযে মঈন আলি ৫টি, ওকস ৩টি এবং বেন স্টোকস নেন ২টি উইকেট।
জারিফ





