আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও সিলেটে এবং নেপালের কাঠমান্ডুতে হবে ম্যাচগুলো।

এটি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

চার গ্রুপে ১৬ দল

অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ বিন্যাস হলো—

  • গ্রুপ এ: ভারত, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপাল।
  • গ্রুপ বি: দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া।
  • গ্রুপ সি: অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
  • গ্রুপ ডি: ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ পর্ব শেষে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলো খেলবে সুপার সিক্স পর্বে। সেখান থেকে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে সেমিফাইনালে।

উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশের ম্যাচ

২১ জানুয়ারি চারটি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড-১-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে বিকেলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলবে গত আসরের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া।

নেপালের আপার মুলপানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম দিন শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড। একই ভেন্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।

২২ জানুয়ারি টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। একই দিন স্বাগতিক নেপাল খেলবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ড-সামোয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব

সূচি অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। এরপর শুরু হবে সুপার সিক্স পর্ব। এই পর্বের দুই গ্রুপের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।

সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচগুলোর জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। ফাইনালের জন্য বিকল্প দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।

চার ভেন্যুতে হবে বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ ও নেপালের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো। ভেন্যুগুলো হলো—

  • বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম।
  • সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট।
  • টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, কাঠমান্ডু।
  • আপার মুলপানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড, কাঠমান্ডু।

তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের প্রতিভা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রতিযোগিতা তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দেয়।

সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, এই বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ তারকারা নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ও নেপালকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বিকাশে দেশ দুটির প্রতি আইসিসির আস্থা ও বিনিয়োগের প্রতিফলন এই আয়োজন। তাঁর মতে, দুই দেশে ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের উপস্থিতি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দেশ দুটিকে উপযুক্ত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ১৬টি দল ৪১টি ম্যাচে শিরোপার জন্য লড়বে। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু হবে ২২ জানুয়ারি।

এস