চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। বেড়েই চলছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ক্রীড়াঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। স্থগিত থেকে শুরু করে স্থগিত হয়ে গেছে বিশ্বের প্রায় সব টুর্নামেন্ট।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটও বন্ধ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন।

শনিবার (২১ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাকিব। সেখানে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি একটি হোটেলে উঠেছেন তিনি। স্বেচ্ছায় নিজেকে আলাদা রেখেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সাকিবের পরিবার থাকে। কিন্তু নিজেকে আলাদা রাখার কারণে স্ত্রী ও মেয়ে থেকে দূরে আছেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার।

ভিডিওতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব বলেন, “আমি মাত্রই যুক্তরাষ্ট্র এসে পৌঁছলাম। যদিও প্লেনে সব সময় একটা ভয় কাজ করেছে। তার পরও চেষ্টা করেছি, যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন থাকা যায়, নিজেকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমি সোজা একটি হোটেল রুমে উঠেছি।”

তিনি বলেন, “ওদেরকে (পরিবারকে) আমি অবগত করেছি যে এখানে থাকব কিছুদিন। যেহেতু বিমানে করে এসেছি, একটু হলেও ঝুঁকি আছে। তাই আমি নিজেকে আইসোলেটেড করে রেখেছি। আমার বাচ্চার সঙ্গেও দেখা করিনি। যদিও এটা আমার জন্য কষ্টের, তার পরও মনে হয়েছে, সামান্য এই ত্যাগটুকু করতে পারলে অনেক দূর এগোতে পারব।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করেছেন সাকিব আল হাসান বলেন, “যদি কেউ বিদেশ থেকে ফিরে থাকেন, তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঘরে রাখতে হবে। আত্মীয়-স্বজন ও বাইরের মানুষ যেন আপনার সঙ্গে এসে দেখা করতে না পারে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, যা খুবই জরুরি।”

তিনি বলেন, “যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, তাদের সবারই ছুটি কম থাকে। তারা চান আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে, ঘোরাফেরা করতে, আড্ডা দিতে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে। যেহেতু সময় আমাদের অনুকূলে নয়, আমি সবাইকে অনুরোধ করব নিয়মগুলো মেনে চলতে। সামান্য এই ত্যাগ পারে আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে, নিজেদেরও সুস্থ রাখতে। আশা করি সবাই কথাগুলি শুনবেন ও মেনে চলার চেষ্টা করবে।”

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আরও বলেন, “সতর্কতাই পারে আমাদের সুস্থ রাখতে, দেশকে সুস্থ রাখতে। কিছু সাধারণ পদক্ষেপ মেনে চলতে হবে আমাদের। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় শিষ্টাচার মেনে চলা, এসব। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে, এগুলো জেনে মেনে চলার চেষ্টা করবেন।”

সেই সঙ্গে খাবার মজুদ না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় তারকা। সাকিব আল হাসান বলেন, “আমি খবরে দেখেছি, অনেকে তিন-চার বা ছয় মাস পর্যন্ত খাবার সংগ্রহ করছেন। আমার ধারণা, খাবারের ঘাটতি আমাদের কখনোই হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা কেউই না খেয়ে মারা যাব না। সবাই ভালো থাকবেন, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হবেন না।”

এমবি