উইলিয়ামসন তিন ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৬৫.৬৫ গড়ে ২৬৯২ রান। স্ট্রাইক রেট প্রায় ৭৫.৩৪। সংক্ষেপে এই হলো ২০১৫ সালে ব্যাট হাতে কেন উইলিয়ামসনের পারফরম্যান্স। টেস্টে তাঁর চেয়ে বেশি রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ, জো রুট ও অ্যালিস্টার কুক। ওয়ানডেতেও উইলিয়ামসনের ওপরে মার্টিন গাপটিল, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদের। তবে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে বছরে সবচেয়ে বেশি রান উইলিয়ামসনেরই। এটিরই স্বীকৃতি ২০১৫ সালের উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড।

নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জায়গা পেয়েছেন উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের দলেও। ‘ক্রিকেটের বাইবেল’খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক-এর বার্ষিক এই সম্মাননায় উইলিয়ামসন ছাড়া বাকি চারজন—কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া সাবেক কিউই অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো।

মূলত ইংলিশ গ্রীষ্মের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই বেছে নেওয়া হয় উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটার। যে কাজটি করেন উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক-এর সম্পাদক, যে দায়িত্ব এখন পালন করছেন লরেন্স বুথ। ১৮৮৯ সালে প্রবর্তনের পর থেকে প্রায় নিয়মিতই এই স্বীকৃতি দিয়ে আসা হচ্ছে। পুরস্কারের নাম ও ফরম্যাট অবশ্য বদলেছে বেশ কয়েকবার। ২০০৪ সাল থেকে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে বছরের সেরা ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার চল। প্রথমবার এটি পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং। একাধিকবার পেয়েছেন দুজন—বীরেন্দর শেবাগ (২০০৮ ও ২০০৯) ও কুমার সাঙ্গাকারা (২০১১ ও ২০১৪)। নিউজিল্যান্ডের কোনো ক্রিকেটার এই প্রথম পেলেন এই স্বীকৃতি।

দুর্দান্ত পারফরমারদের ভিড়ে উইলিয়ামসনকে বেছে নেওয়ার কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন উইজডেন সম্পাদক, ‘দারুণ প্রতিভাবান সব তরুণ ব্যাটসম্যানের যুগে উইলিয়ামসনকে বেছে নেওয়াটাই এটা প্রমাণ করে, সে এই খেলাটার প্রতিটি সংস্করণে কতটা আলো ছড়াচ্ছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, ও এই খেলাটার ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হবে, এই কথার সঙ্গে দ্বিমত করাটা খুব কঠিন।’

লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড পুরস্কারের মতো ‘লিডিং উইমেন ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ পুরস্কারটিও পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডেরই একজন—কিউই নারী দলের অলরাউন্ডার সুজি বেটস। তাঁকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লরেন্স বুথ বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং আর এলিস পেরিকে পেছনে ফেলতে হলে বিশেষ কোনো পারফরম্যান্স দরকার ছিল, বেটসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ঠিক সে রকমই হয়েছে।’ গত বছর প্রবর্তিত এ পুরস্কারটি প্রথম পেয়েছিলেন মেগ ল্যানিং। ক্রিকইনফো।

উইজডেনের লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড

২০০৩ রিকি পন্টিং

২০০৪ শেন ওয়ার্ন

২০০৫ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ

২০০৬ মুত্তিয়া মুরালিধরন

২০০৭ জ্যাক ক্যালিস

২০০৮ বীরেন্দর শেবাগ

২০০৯ বীরেন্দর শেবাগ

২০১০ শচীন টেন্ডুলকার

২০১১ কুমার সাঙ্গাকারা

২০১২ মাইকেল ক্লার্ক

২০১৩ ডেল স্টেইন

২০১৪ কুমার সাঙ্গাকারা

২০১৫ কেন উইলিয়ামসন

 

এআই