এক সময়ে ছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন, শেন ওয়ার্ন, সাকলাইন মুশতাক। এরপরে আধুনিক সময়ে আছেন ইয়াসির শাহ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন বা আমদের সাকিব আল হাসান। টেস্ট ক্রিকেটের স্পিনার বলতে ক্রিকেটবিশ্বে এ কয়টি নামই উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট শুরুর আগেও কথা হচ্ছিলো পিচ নিয়ে। কেমন হতে পারে বাংলাদেশের পিচ, স্পিনাররা ঠিক কতটুকুই বা সুবিধা আদায় করতে পারবেন এসব নিয়ে আলোচনা মোটেও কম হয়নি। আর কোন স্পিনাররা এখানে সফল হবেন এই নিয়েও ছিলো তর্ক-বিতর্ক।
সাকিব, তাইজুল বা আদিল রশিদই উঠে এসেছেন বারবার এই আলোচনার শীর্ষে। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে গিয়েছিলো একটি নাম। আর তা হলো 'মেহেদি হাসান মিরাজ'।
আর তা হবেই বা না কেন। অভিষেক হতে যাওয়া একটা গড়পরতা স্পিনার এই আলোচনার বিষয়বস্তু হবেন না, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু টেস্ট সিরিজ শেষে সবাইকে বিস্মিত, হতভম্ব করে দিয়ে এই ১৯ বছর বয়সী কিশোরই কেড়ে নিলেন পাদপ্রদীপের সমস্ত আলোটুকু।
নিজের, তথা সিরিজের প্রথম টেস্টের ১ম ইনিংসেই নিলেন ৬টি উইকেট। ২য় ইনিংসে তেমন সফলতা না পেলেও তুলে নিয়েছিলেন ১টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আর ২য় টেস্টে তো ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেই। ১ম ইনিংসে ৬টি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে আটকে রাখলেন মাত্র ২৪৪ রানে। ২য় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৩ রানে লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে মিরাজ যেন বল হাতে হয়ে উঠলেন আরোই ভয়ঙ্কর। মাত্র ৭৭ রানের বিনিময়ে আবারো আদায় করে নিলেন ৬টি উইকেট। সেই সাথে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিলেন মাত্র ১৬৪ রানেই। ফলাফল; বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নিলো ১০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে।
আর এই জয়ের পেছনে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিশাল অংশীদার ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কী। আর তাইতো অভিষেক টেস্ট সিরিজেই জিতে নিলেন ম্যান অফ দ্যা সিরিজের পুরষ্কার। আর সেই সাথে ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে জিতে নিলেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ পুরষ্কারটিও।
শুধুমাত্র বাংলাদেশিরাই নয়, পুরো বিশ্বই যেন একসাথে বলছে এখন, 'সাবাশ মিরাজ! এগিয়ে যাও'
জারিফ





