ধনঞ্জয়া ডি সিলভা-কুশল মেন্ডিসের রেকর্ড গড়া জুটি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল মোস্তাফিজ-লিটনের যুগলবন্দিতে। কিন্তু মেন্ডিস ছিলেনই।
ধনঞ্জয়া ১৭৩ রানে ফেরার পর ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন মেন্ডিস। কিন্তু ১০৫তম ওভারে তাইজুলের বলে ব্যক্তিগত ১৯৬ রানে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন মেন্ডিস।
চা-বিরতি পর্যন্ত লঙ্কানদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪১৬। ব্যাট করছেন রোশান সিলভা (৩৮*) ও দিনেশ চান্ডিমাল (০*)। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে শ্রীলঙ্কা এখনো ৯৭ রানের দূরত্বে।
বাংলাদেশের বাঁ হাতি স্পিনারদের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড উইকেটে বেশ কিছু শট খেলেছেন মেন্ডিস। এই ইনিংসে (৩৪.৭ শতাংশ) এবং তাঁর ক্যারিয়ারের মোট রানের বেশিরভাগ (২৪.৯ শতাংশ) এসেছে এ শট থেকে।
সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই হয়তো চা-বিরতির এক ওভার আগে তাইজুলের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিটি একইভাবে ‘অ্যাগেইনস্ট দ্য স্পিন’ খেলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু ব্যাট-বলে ঠিকমতো না হওয়ায় মিড উইকেটে ওঠা ক্যাচটি দারুণ ডাইভে তালুবন্দী করেন মুশফিক। মেন্ডিসের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আগের ১৯৪ রানের ইনিংসটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে গল টেস্টে। অর্থাৎ মেন্ডিসকে দুবার ডাবল সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত করল বাংলাদেশ।
২৭ ওভারের দ্বিতীয় সেশনে লঙ্কানরা ১২৭ রান তোলার বিনিময়ে হারিয়েছে ২ উইকেট। এই সেশনে নতুন বল নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ধনঞ্জয়াকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশি এ পেসারের শর্ট লেন্থের ডেলিভারি পুল করতে গিয়ে লিটন দাসের গ্লাভস বন্দী হন ধনঞ্জয়া (১৭৩)। ফেরার আগে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ৩০৮ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তিনি।
ধনঞ্জয়া ফিরে গেলেও মেন্ডিস এক প্রান্তে খেলেছেন আস্থার সঙ্গে। সে জন্য ইমরুল কায়েস ও মেহেদী হাসান মিরাজের নিশ্চয়ই আফসোস হচ্ছে! গতকাল ব্যক্তিগত ৪ রানে স্লিপে এ দুজনের হাতে প্রথম ‘জীবন’ পেয়েছিলেন মেন্ডিস।
ব্যক্তিগত ৫৭ রানে দ্বিতীয় ‘জীবন’ পেয়েছিলেন ইমরুলের হাতে। সেটা অবশ্য বেশ কঠিন ক্যাচ ছিল। কিন্তু টেস্টে ‘স্লিপ কর্ডন’-এর ফিল্ডারদের কাছ থেকে এমন ক্যাচ তো আশা করাই যায়।
ইমরুল সেই আশা পূরণ করতে না পারায় আশা পূরণ হয়েছে মেন্ডিসের। ২৩তম জন্মদিনে লঙ্কান এ ব্যাটসম্যান তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি!
দলের স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধেছিলেন ধনঞ্জয়া-মেন্ডিস। শূন্য রানে ১ উইকেট পড়ার পর টেস্ট ইতিহাসে তাঁদের ৩০৮ রানের জুটিই সর্বোচ্চ।
এ পথে তাঁরা ভেঙেছেন ৯২ বছর আগের এক রেকর্ড। ১৯২৬ সালে লিডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ২৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিল উডফুল ও চার্লস ম্যাকার্টনি।
এএস





