শুরুটা বাজে হলেও সপ্তম উইকেট মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাসের শতরানের জুটিতে দিন শেষে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছে সফরকারী বাংলাদেশ। বুধবার হারারেতে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৯৪ রান। আলো স্বল্পতার কারণে আগেই শেষ হয় যায় খেলা। বাংলাদেশ খেলেছে ৮৩ ওভার।
ম্যাচের প্রথম বলেই সাইফ হাসানকে কাঁপিয়ে দেন মুজারাবানি। বাউন্সার ঠিকমতো খেলতে না পেরে অল্পের জন্য ক্যাচ দেননি সাইফ। ওই ওভারেই মেলে সাফল্য। ভেতরে ঢোকা বলের লাইন পুরোপুরি মিস করেন সাইফ। বল তার ব্যাটের পাশ দিয়ে ছোবল দেয় স্টাম্পে।
পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে পাঁচবার দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই আউট হলেন এই ওপেনার, এর মধ্যে তিনটিই শূন্য।
নিজের তৃতীয় ওভারে মুজারাবানি ফেরান শান্তকে। অ্যাঙ্গেলে বেরিয়ে যাওয়া বল বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় তৃতীয় স্লিপে অভিষিক্ত ডিওন মায়ার্সের হাতে। বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেটে ৮।
মুমিনুল দায়িত্ব নেন নড়বড়ে দলের ভিত শক্ত করার। শুরু থেকে বেশ আস্থায় খেলতে থাকেন। প্রথম ঘণ্টায় দলের তিনটি বাউন্ডারিই আসে তার ব্যাট থেকে। তিনটিই লেগ সাইডে, একটি গ্ল্যান্স করে, দুটি ফ্লিকে।
সাদমান শুরুটা স্বস্তিতে করতে না পারলেও লড়াই করে টিকে থাকেন। প্রথম ঘণ্টায় তার রান ৩৪ বলে ৪। পরে একটু ফিরে পান নিজেকে। কয়েকটি বাউন্ডারিও আদায় করেন। মুমিনুলের সাথে তার জুটি পেরিয়ে যায় ফিফটি। এই জুটি যখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বলেই মনে হচ্ছিল, তখন সাদমানের বিদায়। বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে না দিয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, স্লিপে ক্যাচ নিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। সাদমানের সংগ্রহ ৬৪ বলে ২৩।
লাঞ্চের ঠিক আগে এনাগাভার বল লাফিয়ে উঠে ছোবল দিল মুশফিকুর রহিমের আঙুলে। ডানহাতের তর্জনির নখের দিকটা রক্তাক্ত হয় তার। তবে হাল ছাড়েননি। কিন্তু বেশিদূর আগাতেও পারেননি। দলীয় ১০৬ রানে বিদায় নেন তিনি। ৩০ বলে ১১ রান করে তিনি মুজারাবানির শিকার।
এর কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন সাকিব আল হাসান। খুব বেশি বল তিনি খেলার চেষ্টাই করেননি। ৫ বলে তিন রান করে নাউচির শিকার তিনি। ১০৯ রানে বাংলাদেশের নেই ৫ উইকেট। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলা মুমিনুল হক ততক্ষণে পেয়ে গেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। ৬৪ বলে ১০ চারে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি।
লিটনকে সাথে নিয়ে মুমিনুলের চলাটা ছিল বেশ দৃঢ়তায় পূর্ণ। দলের এমন মুহূর্তে তার সেঞ্চুরিটা খুব দরকার ছিল। কিন্তু পারেননি। নাওচির বলে মেয়ার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯২ বলে ১৩ চারে ৭০ রান করেন মুমিনুল হক।
সপ্তম উইকেট জুটিতে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাস। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ এই জুটিতে পৌঁছায় ২৭০ রানে। দুজনই পান ফিফটির দেখা। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন লিটন দাস। ২৫৬ বলে এই জুটি যোগ করেন ১৩৮ রান।
ব্যক্তিগত ৯৫ রানে তিরিপানোর বলে নাউচির হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ১৪৭ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান ১৩টি চার। পরের বলেই আউট হয়ে গোল্ডেন ডাক মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪১ বলে ৫৪ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ১৩ রানে তাসকিন আছেন ক্রিজে অপরাজিত।
বল হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারাবানি তিনটি, তিরিপানো ও নাউচি দুটি করে, এনগারাভা একটি উইকেট লাভ করেন।
এবিএস





