টাই ব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ বিশ্বকাপের মতো এবারও জার্মানির মুখোমুখি হবে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা। এবার জার্মানিকে হারিয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এসেছে মেসিদের।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় সাও পাওলোর মাঠে শুরু হয়। কিন্তু মূল লড়াইয়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ও ছিল গোলশূন্য। অবশেষে টাই ব্রেকারে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত দুটি সেভে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লাতিন দেশটি।

টাইব্রেকারে প্রথম বলটিই ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো। নেদারল্যান্ডসের রন ভ্লারকে পরাস্ত করে দলের জন্য সুদিনের হাওয়া বয়ে নিয়ে আসেন এই তারকা।

আর্জেন্টিনার প্রথম কিকটি নেন মেসি। ইয়াসপার সিলেসেনকে সহজেই বোকা বানিয়ে গোল করেন চারবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ১‌-০ গোলে এগিয়ে যায় মেসির দল।

দ্বিতীয় স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ডাচদের প্রাণভোমরা আর্জেন রোবেন। গোল করেছেন আর্জেন্টিনার এজেকুয়েল গ্যারি। ফলে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।

তৃতীয় কিকটিতেই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেন রোমেরো। এবার স্নেইডারের কিক করা বলটি দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন এই গোলরক্ষক। তবে অ্যাগুয়েরা গোল করতে ভুল করেননি। ফলে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ১৯৯০ বিশ্বকাপের রানার্স আপ দলটি।

চতুর্থ বলটিই ছিল আর্জেন্টিনার জয়ের জন্য শেষ বল। এতে হল্যান্ডের ডার্ক কুইট গোল করেন। পরে আর্জেন্টাইন তারকা ম্যাক্সি রদ্রিগেজও গোল করতে ভুল করেননি। ফলে এক বল হাতে থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার শিষ্যদের।

এর আগে খেলার শুরুর দিকে দুর্দান্ত ছিল আর্জেন্টিনা। বেশ কয়েকটি সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।

খেলা শুরুর ৫ মিনিটে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লিওনেল মেসির চমৎকার ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক ইয়াসপার সিলেসেন।

৩২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের প্রথম সুযোগটি তৈরি হয় কর্নার থেকে। বাঁদিক থেকে ভেসলি স্নেইডারের কর্নার ফিস্ট করে ফেরান সের্হিও রোমেরো। ফিরতি বলে গালতাসারই মিডফিল্ডারের ক্রস এগিয়ে এসে ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।

বিরতির আগে ১৩টি মারাত্মক আক্রমণ চালায় মেসিরা। বিপরীতে ৮ বার হামলা চালায় নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে মেসিদের গোলপ্রচেষ্টা ছিল ৩টি। আর ডাচদের প্রচেষ্টা ছিল একটি। ৫৩ ভাগ দখলে নিয়েও এগিয়ে ছিল দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা উজ্জীবিত হয় নেদারল্যান্ডস। সমান তালে আক্রমণ করতে থাকে তারা। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা এগিয়ে চললেও সোনার হরিণ গোলের দেখা মেলেনি।

৭৫ মিনিটে এক দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি গঞ্জালো হিগুয়াইন। ৯০+১ মিনিটে স্বপ্ন ভঙ্গে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল আকাশী জার্সিধারী দলটি। দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের আর্জেন রোবেন। কিন্তু মাসচেরানোর অসাধারণ প্রচেষ্টা বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা।

অতিরিক্ত সময়ে একই গতিতে খেলা চললেও শেষের দিকে দুর্দান্ত দুটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু দুটি বলই ফিরিয়ে দেয় নেদারল্যান্ডস গোল রক্ষক।

ঢাকা, ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //জেডআই