৭ বছর আগের একটি ম্যাচের অবিকল কপিই বলা যায়। রোববারে ম্যাচটির সঙ্গে ২০০৭ সালের ১৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়া আগের ম্যাচের বেজায় মিল। পার্থক্য শুধু এবার ১৫ জুন। সেবার বৃষ্টির কারণে একটি বলও গড়ায়নি। আর এবার বৃষ্টির পরও ম্যাচ শেষ হয়েছে। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ডার্ক ওয়ার্থ-লুইস(ডি/এল) পদ্ধতিতে ৭ উইকেট জয় তুলে নিয়েছে ভারত। সঙ্গে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে সফরকারীরা।
গত ৭ বছর আগেও ওই পরিত্যক্ত ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের এনামুল হক মনি এবং শ্রীলঙ্কান ডি সিলভা। কাকাতালীয়ভাবে এবারও তারাই দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারতের জন্য ২৭৩ রানের জয়ের লক্ষ্য ছিল। খুব সহজ ছিল না। তাই প্রত্যাশার রাজ্যে উঁকি দিচ্ছিল জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়া বাংলাদেশের সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে। বাংলাদেশ ৭ উইকেট ব্যবধানে হেরেছে। বৃষ্টির কারণে জয়ের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে ২৬ ওভারে ১৫০ রান। বৃষ্টির পর ২ উইকেট হারালেও সুরেশ রায়না এবং আম্বাতি রাইডু মিলেই সহজ জয় তুলে নিয়েছেন। এবং তা ৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের স্পর্শ সীমানা অতিক্রম করেছে ভারত।
বৃষ্টি থামার পর ফের খেলা শুরু হয়েছে। তখন ক্রিজে আজাঙ্কে রাহানে এবং চেতশ্বর পূজারা। বোলিং আক্রমণে সাকিব। তার করা ওভারে পুজারাকে সাজেঘরে ফিরেছেন। তখনও ক্রিজে অবিচল রয়েছেন রাহানে। মাশরাফির বলে খেলতে গিয়ে জিয়াউর রহমানকে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন রাহানেও। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে ভারতের হাতে। রাহানে ৭০ বল খেলে ৬৪ রান করেছেন।
বৃষ্টির আগে বাংলাদেশের করা ২৭৩ রানের জবাবে ভারত ১৬.৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করেছে। সাকিবের ২ উইকেট ছাড়াও মাশরাফি একটি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করে অধিনায়ক মুশফিক ও সাকিবের ব্যাটে ভর করে ২৭২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
শেষের দিকে ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করেছে। শুরুটা ভাল করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে হারাতে হেয়েছে তামিম ইকবালকে। মুমিনুল হকও ব্যর্থ; ৬ রান করে উমেশ যাদবের শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। এরপর এনামুল-মুশফিক জুটি ৪৭ রান তুলে নিয়ে উইকেটে থিতু হয়েছেন। চাপহীন কেলতে থাকা এনামুল হক বিজয় নবীস পারভেজকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে আম্বাতি রাইডুর তালুবন্দি হয়েছেন।
বিজয় ফিরে গেলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের ১৫তম হাফসেঞ্চুরির পূর্ণ করেছেন মুশফিক। তবে পারভেজের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল খেলতে গিয়ে আজাঙ্কে রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন মুশফিক। আউট হওয়ার আগে ৬৩ বলে ৩ চার ও ৩ ছয়ে ৫৯ রান করেছেন তিনি। পরে দায়-দায়িত্ব সাকিব-রিয়াদের সূচারুভাবে পালন করেছেন। সাকিব তার ক্যারিয়ারের ২৬তম হাফসেঞ্চুরিও ছুঁয়েছেন এ ম্যাচে। তবে হাফসেঞ্চুরি করেই সুরেশ রায়নার রিটার্ন ক্যাচে সাজঘরে ফিরেছেন সাকিব। তিনি ৫৮ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ৫২ রান করেছেন। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৪ বলে ৪১ রান করেছেন।
শেষের দিকে নাসির হোসেন, মাশরাফি এবং রাজ্জাকের ব্যাট না হাসলে ২৭২ রান পার হত না স্বাগতিকদের। নাসির (২২) মাশরাফি (১৮) এবং রাজ্জাক (১৬) রান করেছেন।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন উমেশ যাদব। পারভেজ রসূল ও অমিত মিশ্র নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। আর সুরেশ রায়না, আকসার প্যাটেল একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ঢাকা, ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





