তিনি সাজঘরে ফিরতে পারতেন সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে থাকতেই। কিন্তু তাকে আউট করার কোনো ইচ্ছাই দেখা গেল না বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন কিংবা উইকেটরক্ষক লিটন দাসের মাঝে। যে কারণে আউট হয়েও বেঁচে যান পাকিস্তানের ওপেনার শান মাসুদ, তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
অবশ্য সেঞ্চুরি করার পর নিজের সংগ্রহে আর এক রানও যোগ করতে পারেননি শান। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরের ওভারেই তাকে বোল্ড করে দিয়েছেন তাইজুল। তবে আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম জীবন পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির দিকে। মাত্র ৩ রানের সময় তার ক্যাচ ফেলেছিলেন এবাদত হোসেন।
চা পানের বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০৬ রান। শান মাসুদ ঠিক ১০০ রানে ফিরেছেন সাজঘরে। বাবর আজম অপরাজিত রয়েছেন ৬৯ রানে। তাকে সঙ্গ দিতে পাঁচ নম্বরে নামা আসাদ শফিক ৪ বল খেলে এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। আর মাত্র ২৭ রান করলেই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে পাকিস্তান।
স্বাগতিকদের ইনিংসের ৪৫তম ওভারে ৮৬ রানে ব্যাট করছিলেন শান মাসুদ। অফস্টাম্পের বেশ বাইরের এক ডেলিভারিতে অলস ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে যান তিনি। কিন্তু সেটি ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে পারেননি। তবে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগেছিল ঠিকই। সেটি আবার একদমই বুঝতে পারেননি রুবেল কিংবা লিটন। দুজনের কেউই আবেদন করেননি। যার ফলে কট বিহাইন্ড হয়েও বেঁচে যান শান।
এই ঘটনার ৮ ওভার পরে রুবেল হোসেন বলেই ফাইন লেগে চালিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি এ ওপেনার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। পরের ওভারেই তাইজুলের ভেতরে ঢোকা এক ডেলিভারিতে অলসভাবে ডিফেন্স করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান শান। ভেঙে যায় শান-বাবরের ১১২ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।
শান ফিরলেও চা পানের বিরতি পর্যন্ত নিজের উইকেট বাঁচিয়ে রেখেছেন বাবর। ব্যক্তিগত মাত্র ৩ রানের সময় লংঅফে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি ফেলে দেন এবাদত। জীবন পেয়ে বাবর তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফসেঞ্চুরি। এগিয়ে যাচ্ছেন পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। তার ব্যাটেই এখন বড় লিডের আশা দেখছে স্বাগতিকরা।
এর আগে পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ওভারে এবাদত হোসেনের হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক মুুমিনুল হক। ডানহাতি পেসারের ওই ওভারে মাত্র এক রান নিতে পারে স্বাগতিকরা। ওই এক রানও আসে লেগ বাই থেকে।
দ্বিতীয় ওভারে এসেই সাফল্য পান আবু জায়েদ রাহী। ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে তিনি ফিরিয়ে দেন দুই টেস্টের ক্যারিয়ারে দুই সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলিকে।
রাহীর বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিটি শরীরের বাইরে খেলতে গিয়ে শূন্য রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আবিদ। চোখের পলকে সেই বল গ্লাভসবন্দী করে নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। পাকিস্তানের বোর্ডে তখন মাত্র ২ রান।
তবে এমন শুরুর পরও পাকিস্তানকে চেপে ধরতে পারেননি টাইগার বোলাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ৯১ রানের বড় জুটি গড়েন আজহার আলি আর হারিস সোহেল। শেষতক এই জুটিটাও ভাঙেন রাহিই।
ইনিংসের ২৩তম ওভারে টাইগার পেসারের দারুণ এক ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ হন পাকিস্তানি অধিনায়ক আজহার। ৫৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৩৪ রান। ২ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় পাকিস্তান।
এমআর





