এক ম্যাচ হাতে থাকতে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এবার টাইগারদের সামনে বাংলাওয়াশের হাতছানি। সেই লক্ষ্যে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে মাশরাফিরা। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু হবে তাদের লড়াই।

ম্যাচটিতে ভারতীয় দল যখন মান বাঁচানোর জন্য লড়বে তখন নির্ভার টাইগারদের সামনে থাকবে হোয়াইট ওয়াশের হাতছানি। ক’দিন আগে বাংলাওয়াশের এই মাহাত্ম আপাদমস্তক উপভোগ করে গেছে উপমহাদেশের আরেক ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান। এবার কি একই পথেই ভারতকে পাঠাতে যাচ্ছে টাইগাররা?

মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বাগতিক দলের অল-রাউন্ডার নাসির হোসেন কিছুটা ভদ্রভাবেই বললেন, ‘দলের চিন্তা-ভাবনা আসলে তেমন কিছু না। চেষ্টা থাকবে ম্যাচটি জেতার। আমরা জেতার জন্যই খেলব এটাই বড় কথা।’

নাসির বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে একটু আগে কথা হয়েছে। দুটি ম্যাচে হেরে গেলে আমরা যেভাবে চাপে থাকতাম এবং গুরুত্ব দিয়ে খেলতাম কালকেও যেন সেভাবেই খেলি। জেতার জন্যই যেন খেলি। সবাই যেন সিরিয়াস থাকে। বিন্দু পরিমাণও ছাড় দেয়ার যাবে না।"

শেষ ম্যাচের জন্য টাইগাররা সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে নাসির বলেন, ‘ভারত আমাদের উপর তাদের সর্বোচ্চ আক্রমণ করবে এটা আমরা জানি। কে কোন পরিকল্পনায় আমাদের আক্রমণ করলো সেটা দেখার বিষয় নয়। আমরা কি করছি সেটাই আমাদের কাছে বড় ব্যাপার। প্রত্যেকটা ক্রিকেটারেরই আলাদা আলাদা ভূমিকা আছে, আমরা নিজেদের ভূমিকাটুকুই কেবল মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা করব।’

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের বড় দল হয়ে ওঠেছে বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কিনা প্রশ্ন করা হলে জবাবে নাসির বলেন, ‘আমি এখনো বলবো না আমরা বড় দল হয়ে উঠছি। আমরা এখনো পুরোপুরি বড় দল হয়ে উঠতে পারিনি। কারণ আমরা হোম কন্ডিশনে খেলছি। আমরা বড় দল কিনা এখনো বলতে পারছি না। বড় হতে হলে নিয়মিতভাবে দুই-তিন বছর আমাদের এরকম খেলতে হবে। তারপর মনে হবে আমরা হয়তো ভালো অবস্থানে আছি।’

নাসির বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজ আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। সেটা ভারতের বিপক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমরা যদি আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে আশা করি ভারতকে হারাতে পারব।’

এদিকে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন টাইগার দলের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর। এমনটিই মানছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। হুমকি মানলেও এই মুহূর্তে তাকে প্রতিরোধের কোন অস্ত্র পায়নি বলেই প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন সফরকারী দলের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অশ্বিন বলেন, ‘তার (মুস্তাফিজুর) যদি কোন প্রতিপক্ষ না থাকে তাহলে আমরা কি করব? আমরা কি তাকে অপহরণ করব?’

বাংলাদেশ দল (সম্ভাব্য): তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, রনি তালুকদার, মুমিনুল হক ও আরাফাত সানি।

ভারত দল (সম্ভাব্য): মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, আম্বাতি রাইদু, আজিঙ্কা রাহানে, রবিন্দ্র জাদেজা, ধাওয়াল কুলকার্নি, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, স্টুয়ার্ট বিনি, অক্ষর প্যাটেল, মোহিত শর্মা, উমেশ যাদব ও ভুবেনশ্বর কুমার।

জেডআই