নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে ১৩ ওভারে বাংলাদেশের দেওয়া ১১২ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। দলটির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আব্দুল সামাদ ও সাইম আইয়ুব।

বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে কঠিন দিন গেছে মুস্তাফিজুর রহমানের। দুই ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। তার করা দুই ওভারেই পাকিস্তান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস না হলে দলের স্কোর আরও কম হতে পারত।

বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় কাভারের নিচে থাকা উইকেটে স্পিনারদের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ চার স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে। শুরুতে রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদীর স্পিনে পাকিস্তানকে চাপে রাখাও সম্ভব হয়।

প্রথম তিন ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এরপর ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস।

ওই ওভারের প্রথম দুই বলেই টানা ছক্কা হাঁকান সাইম আইয়ুব। পরে মুস্তাফিজের স্লোয়ারে আউট হন তিনি। তবে ওই ওভারে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় গতি পেয়ে যায়।

দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়। এবার আব্দুল সামাদ তার দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকানোর পর টানা চারটি চার মারেন। ওই ওভার থেকে আসে ২৩ রান।

মুস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভার শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান। শেষ পর্যন্ত ১২ বলেরও কম সময়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা।

পাকিস্তানের হয়ে আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান করেন। সাইম আইয়ুবের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ২১ রান। নাসান নেওয়াজ ২২ বলে করেন ২৭ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী তুলনামূলকভাবে পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তবে নাসুম আহমেদও ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে চাপে পড়ে যান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। চার ওভারের পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩ রান করে দলটি।

৬ দশমিক ৩ ওভারে ৪৫ রানে চার উইকেট হারানোর পর হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মিলে ইনিংস কিছুটা সামাল দেন। দুজনের জুটিতে আসে ৪৩ রান। তবে অল্প ব্যবধানে তাদের দুজনের বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থ হন। মাত্র ৩ বলে ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। স্পিনারদের সহায়ক উইকেটে পাকিস্তানের বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশিরভাগ সময়ই চাপে রেখেছে।

শেষ পর্যন্ত ১১১ রান নিয়েই থামতে হয় বাংলাদেশকে। লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের ব্যাটাররা শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও সামাদ ও আইয়ুবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল পাকিস্তান। অন্য সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে স্বর্ণের লড়াইয়ে নামবে তারা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই। ৩ অক্টোবর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সেমিফাইনালে পরাজিত দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

এস