দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের পাকিস্তান বধ করল বাংলাদেশের টাইগাররা। চলতি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীদেরকে ৭৯ রানে পরাজিত করেছে সাকিব আল হাসানের দল।
শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময় ৩২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৫.২ ওভারে ২৫০ রান সংগ্রহ করতেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত থাকা বাংলাদেশ আগেই নিজেদেরকে ফেবারিট বলে দাবি করেছিল। বিসিবি একাদশের কাছে সফরকারীদের হারের ফলে টাইগারদের সাহস আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সিরিজের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবির প্রমাণ দিল তারা।
১৯৮৬ সাল থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলে আসছে বাংলাদেশ। খেলেছিল ৩২টি ওয়ানডে। কিন্তু জয় শুধু একটিই। ১৬ বছর আগে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে।
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরকে হারানোর সুযোগ পেয়েছিল ২০১২ এশিয়া কাপে। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হয়েছিল। অবশেষে সেই জয় খরা কাটিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজ বাহিনী।
এদিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে পার করে তারা।
১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আরাফাত সানির বলে বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন নাসির হোসাইন। বিদায় নেন ৩১ বলে ২৪ রান করা সরফরাজ আহমেদ।
১৩তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন ওয়ানডাউনে মাঠে নামা মোহাম্মদ হাফিজ। সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত রান আউট করেন।
আযহার ও হারিস গড়ে তোলেন ৮৯ রানের জুটি। অবশেষে আযহারকে বিদায় করে দিয়ে তাদের জুটি ভেঙ্গে দেন তাসকিন। মুশফিকের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ৭৩ বলে ৭২ রান করে এই অধিনায়ক।
৩২তম ওভারের পঞ্চম বলে সেই তাসকিনের বলে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ আউট হন ৬৪ বলে ৫১ রান করা হারিস সোহাইল।
৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আরাফাত সানির শিকার পরিণত হন ফাওয়াদ আলম। ১৪ রান করে সৌম্যর হাতে ক্যাচ আউট হন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে রানের খাতা খোলার আগে বোল্ড হন সাদ নাসিম।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬৭ রান করে আউট হলে আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। ফলে বড় ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।
টাইগার বোলার তাসকিন ও আরাফাত সানি তিনটি করে উইকেট পান। একটি করে উইকেট পান রুবেল ও সাকিব।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন টাইগারদের উদ্বোধনী জুটির ব্যাটসম্যান তামিম ও সৌম্য সরকার। প্রথম পাওয়ার প্লে'র ১০ ওভারে পাকিস্তানকে উইকেটশূন্য রাখেন তারা।
১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউটের ফাঁদে পড়ে মাঠ থেকে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। ৩৬ বলে মাত্র ২০ রান করেন তিনি।
প্রথম উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের চাকা ঘুরাতে পারছিলেন না তামিম ও ওয়ানডাউনে মাঠে নামা মাহমুদুল্লাহ।
২০তম ওভারের শেষ বলে রাহাত আলীর বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে মাঠ থেকে বিদায় নেন ১৮ বলে ৫ রান করা মাহমুদুল্লাহ।
এরপর ব্যাট হাতে পাক বোলারদেরকে বেধড়ক পেটান তামিম ও মুশফিকুর রহিম। দেখতে দেখতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন টাইগারদের ওপেনার।
৪১.৪ ওভারে তামিম ক্যাচ তুলে ভেঙ্গে যায় তাদের ১৭৮ রানের জুটি। ওয়াহাব রিয়াজের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১৩৫ বলে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৩২ রান এই ব্যাটসম্যান।
এরপর ঝড়ো ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মুশফিক। ৬৯ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৭৭ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১০৬ রান করেন তিনি।
এরপর সাকিব ও সাব্বির বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। ৭ বলে ১৫ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হন সাব্বির। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৩১ রান করেন সাকিব। ৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন নাসির।
পাকিস্তানের সেরা বোলার ওয়াহাব রিয়াজ ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন।
জেডআই





