মঙ্গলবার ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে স্কিল অনুশীলন করেছেন বাংলোদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২ সেশনে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং অনুশীলন করেছেন তারা।

এ আগে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রথম দিন সোমবার ‘স্ট্রেন্থ’ও ‘কন্ডিশনিং’সেশনে অংশ নিয়েছেন ক্রিকেটাররা।

মিরপুর স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেট এবং ইনডোরের দুটি উইকেটে এদিন শট বল অনুশীলন করেছে মাশরাফি বাহিনী। বিশ্বকাপের দুই আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে শর্ট বলই হতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ; তাই ‘স্কিল’অনুশীলনের প্রথম দিন শর্ট বল সামলানোর অনুশীলনেই মগ্ন থাকতে হয়েছে এনামুল-মুশফিকদের।

শুধু নেট বোলারই ছিল না, সেন্টার উইকেটে নিয়ে আসা হয়েছিল বোলিং মেশিনও। প্রথম সেশনের পুরোটা সময় শট বল সামলাতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। প্রথম সেশনের নির্ধারিত সময় ছিল বেলা ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু শট বল অনুশীলন করাতে ব্যস্ত থাকায় ক্রিকেটারদের নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা বেশী অনুশীলন করিয়েছেন প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে।

মুশফিক-সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-এনামুল হক, মুমিনুল-সৌম্য সরকার, নাসির হোসেন-মাশরাফি বিন মুর্তজা জুটি হয়ে সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। তাদেরকে জাতীয় দলের নিয়মিত নেট বোলাররা বল করে গেছেন। সঙ্গে রসদ যুগিয়েছে বোলিং মেশিন। এ ছাড়া জাতীয় দলের বাইরে থাকা আবুল হাসান রাজু, শাহাদাত হোসেন রাজীব, ইমরুল কায়েসও অনুশীলনে ছিলেন; ছিলেন স্ট্যান্ডবাই থাকা পেসার শফিউল ইসলামও।

অনুশীলনের বিরতিতে ওপেনার এনামুল হক বিজয় জানিয়েছেন, ‘শুরুতে হাথুরুসিংহে তাদের নতুন বলে ব্যাটিং অনুশীলন করিয়েছেন। বলের গতি বাড়াতে পিচের ওপর পাথরের স্ল্যাব ব্যবহার করা হয়েছে।’এনামুলের বিশ্বাস, এতে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে তাদের।

বোলারদের মধ্যে সেন্টার উইকেটে বোলিং অনুশীলন করেছেন আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকাররা। সৌম্য জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে আসায় এখন নতুন কিছু শিখাচ্ছেন না পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। প্রত্যেকের শক্তিশালী দিকটায় বেশী করে গুরুত্বারোপ করছেন তিনি। পেসারদের সঠিক জায়গায় বল করার এবং ‘স্লোয়ার’ঠিকভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্ট্রিক।

ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাটিং অনুশীলনে ব্যস্ত, তখন ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল সাব্বির, নাসিরকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন স্লিপ ও গালির ফিল্ডিং অনুশীলন করানোর কাজে।

উল্লেখ্য, আরও ২ দিন দুবেলা করে ‘স্কিল’অনুশীলন করবেন ক্রিকেটাররা। শুক্রবার আবার স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং সেশন করে পরদিন বিশ্রামে থাকবেন তারা। ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি আবারও ২ বেলা করে অনুশীলন করবেন ক্রিকেটাররা। ২০ জানুয়ারি ১ বেলা অনুশীলনের পরদিন আবার ২ বেলা অনুশীলন করবেন তারা। বাংলাদেশে এই দিনই শেষবারের মতো অনুশীলন করবে জাতীয় দল। এরপর ২৪ জানুয়ারি রাত ৯টায় ব্রিসবেনের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন ক্রিকেটাররা। ব্রিসবেনে ২ সপ্তাহের আরেকটি অনুশীলন ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

এমকে