হেরে যাওয়াটা তার সাথে মনে হয় মানায় না। তাইতো বার বার শুধু জয়ের নিশান দাড় করিয়ে দেয়। গত তিন আসরে জয়ের পর এবারও নিজের আসনটা কাউকে না দিয়ে টানা চার বারের মতো ২০০ মিটার সাতারে চ্যাম্পিয়ান হলেন মাইকেল ফেলপস। ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে এ নিয়ে টানা চার আসরে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। কেড়ে নিলেন নিজের ২২ তম অলিম্পিক স্বর্ণপদক।

অলিম্পিক ইতিহাসে আর কোনো সাঁতারু কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে টানা চারটি সোনা জিততে পারেনি।জাপানের কোসুকে হাগিনো রুপা ও চীনের ওয়াং শুন ব্রোঞ্জ জিতেছেন।

৩১ বছর বয়সী ফেলপসের রিও অলিম্পিকে দুটি ব্যক্তিগত ও দুটি দলীয় সোনা জেতা হলো। লন্ডনে গত অলিম্পিকেও চারটি সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে এথেন্সে ৬টি আর বেইজিংয়ে আটটি সোনা জেতেন সর্বকালের সেরা এই অলিম্পিয়ান।

অলিম্পিকের সব ক্রীড়া মিলিয়ে ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে টানা চারটি সোনা আছে আর দুই জনের। দুইজনই ফেলপসের স্বদেশি। লং জাম্পে কার্ল লুইস আর ডিসকাস থ্রোতে অ্যাল অর্টার।

রিও অলিম্পিকে নিজের প্রথম সোনাটি ফেলপস পেয়েছিলেন গেমসের দ্বিতীয় দিনে সতীর্থদের সঙ্গে ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে। এতে প্রথম সাঁতারু হিসেবে অলিম্পিকের চারটি আসরে সোনা জেতা হয়ে যায় তার।

চতুর্থ দিন ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের সোনার পদকটা গলায় ঝুলিয়েই আবার সুইমিংপুলে নেমে জেতেন ৪*২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলের সোনা। টানা চার অলিম্পিকে এই ইভেন্টে সোনাজয়ী যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্য হিসেবে থেকে আরেকটি রেকর্ড গড়েন ফেলপস ও তার সতীর্থ রায়ান লোকটি। আর কোনো সাঁতারু অলিম্পিকে এক ইভেন্টে চারটি সোনা জেতেননি।

তবে ওই রেকর্ডটি ছিল দলীয়। এবার ষষ্ঠ দিন ২০০ ব্যক্তিগত মিডলেতে সেরা হয়ে ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে চারটি সোনা জেতা প্রথম সাঁতারু হলেন ফেলপস।

অবসর ভেঙে পঞ্চম অলিম্পিকে এসেছেন এই জলদানব। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে ৩১ বছর বয়সী ফেলপসের ঝুলিতে এখন অলিম্পিকের ২২টি সোনা, ২টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২৬টি পদক!

সব পদক মেলালে ১৮টি পদক নিয়ে ফেলপসের পরে আছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জিমন্যাস্ট লারিসা লাতিনিনা। আর সোনার পদকের হিসেবে তো তার ধারেকাছেই কেউ নেই। ৯টি করে সোনা লাতিনিনা, ফিনল্যান্ডের দূরপাল্লার দৌড়বিদ পাভো নুরমি, যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মার্ক স্পিত্স ও স্প্রিন্টার কার্ল লুইসের।

জেড