মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি জানান, মামলাটিতে মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সাক্ষী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামীকাল বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২২ জুলাই মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমনের জেরা শেষ হয়। তার জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে রেকর্ড করা হয়েছিল গত ১৮ জুন।
জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম গুম ও নির্যাতনের অভিযোগসহ দীর্ঘ আট বছর কারাগারে থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। শুধু হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে মিথ্যা মামলায় তাকে বছরের পর বছর আটক রাখা হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনাসহ গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
মামলায় গ্রেপ্তার ৩, পলাতক ১০
এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে তিনজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। মঙ্গলবার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
অন্য চার আসামি হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
এনএইচ