মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এনামুল হক তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী নাসিমা বেগমও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এনামুল হক ও নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এনামুলের বিরুদ্ধে। প্রথমে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতনের অভিযোগে ২০২২ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নাসিমা। পরে মামলাটি মীমাংসা করা হয়।
এরপর আবারও ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নাসিমাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে বিরতির সময় যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এনামুল হক স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনা দেখে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে নাসিমাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে ১০ আগস্ট থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা বেগম বলেন, দুজনই একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। নাসিমাকে নির্যাতনের অভিযোগে মানিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোগদার বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে এনামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এমএম