শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় রামিসার বাবা হান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রীকে, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।

অন্যদিকে একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

Munshiganj_Ramisa_Father_20260522_213847651

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।

এমএম