রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফেনীর মজুমদারহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাংলাদেশ অংশে বিলোনিয়া আইসিপিতে দুই বাহিনীর অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সীমান্তে একাধিক পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ হওয়ার পর এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুশইন বন্ধে বিএসএফের ইতিবাচক সাড়া
পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর ও কেতরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। বৈঠকে পুশইন সম্পূর্ণ বন্ধে ভারতীয় পক্ষকে কঠোর বার্তা দেয় বিজিবি।
জবাবে বিএসএফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কোনো ধরনের প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে দুই বাহিনী তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং জমিসংক্রান্ত স্থানীয় বিরোধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জটিলতা হলে দ্রুত বৈঠকের সিদ্ধান্ত
সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে শুরুতেই কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সেখানে সমাধান না হলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়ক বা কমান্ড্যান্ট পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অপরদিকে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠক শেষে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পুশইন বন্ধের বিষয়েও বিএসএফকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
এর আগে দুই দফা পুশইনের চেষ্টা
এর আগে গত ২৫ জুলাই ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাত নারী-শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি বাধা দিলে পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
পরদিন একই উপজেলার কেতরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে এক নারী ও তিন শিশুসহ চারজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। সেদিনও বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।
এস