নিহতরা হলেন—সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সিজার হোসেনের স্ত্রী ইমা খাতুন (২১) এবং পাতিবিলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ ও ইমার পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে কর্মরত স্বামীর কারণে ইমা তার দুই বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। রোববার গভীর রাতে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ইমার ঘরের সামনে যান।

দরজায় ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় চিকিৎসক পরীক্ষা করে ইমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে ইমার পারিবারিক বিরোধ ছিল। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।

অন্যদিকে সোমবার সকালে রবিউল ইসলামকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরবে থাকাকালে রবিউল ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

দেশে ফেরার পর পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী পারভিনকে মৌখিকভাবে তালাক দেন রবিউল। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

রোববার গভীর রাতে তিনি সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে যান। এর পরই তার মৃত্যু হয়। পারিবারিক বিরোধ ও অভিমান থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এস