শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে, ৮ দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেল। ৮ দফা দাবি না মানলে ১ দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হন। দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।’ তার দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি ‘জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয়করণ করেছে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি ‘ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে’—এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছিল বলে তারা মনে করেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছেন।’ তার দাবি, জুলাইয়ের জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বারবার বলা হলেও বিএনপি নানা অজুহাতে তা করছে না। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করছেন। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণ ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেবে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে জনসভায় পৌঁছানোর আগে লংমার্চের বহর বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে। কর্মসূচির পরবর্তী গন্তব্য ছিল বগুড়া, গাইবান্ধা হয়ে রংপুর। আয়োজকদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সচিব সারজিস আলমসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এস