এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে চলেছে বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত এক চুক্তি আগামী ২৪ অক্টোবর চীনে সম্পন্ন হবে। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) আদলেই এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এআইআইবি)ৱ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সে সময় সচিবালয়ে এআইআইবি ব্যাংকের সদস্য হওয়ার বিষয়ে এক বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মেজবাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম উপস্থিত ছিলেন।
সে সময় বলা হয় অক্টোবরে সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই (এমওইউ) করার কথা জানানো হয়।
আর এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে এআইআইবি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) আদলে এআইআইবি নামের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চায় চীন সরকার। আর এজন্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে চায় চীন। বলা হয়েছে, সদস্য হলে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা করা হবে। তবে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে চায়। কারণ বাংলাদেশ সরকার চায় না এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়ে অন্য মিত্র দেশ বা দাতা সংস্থার বিরাগভাজন হতে।
এ লক্ষ্যে সদস্য হওয়ার নেতিবাচক এবং ইতিবাচক দিকগুলোর ব্যাপারে মতামত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদের মতামত পাওয়ার পরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র জানায়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে চীন। এ লক্ষ্যে শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও এ ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ করতে চায় চীন সরকার। চীন সরকারের প্রস্তাব মতে, এ ব্যাংকের মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন তথা সহযোগিতা ত্বরান্বিত হবে।
তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধীরে চল নীতি অনুসরণ করতে চায়। কারণ এরই মধ্যে ভারতের নেতৃত্বে ব্রিকস ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। যেখানে সদস্য হিসেবে চীনও রয়েছে। এখন সরকার খতিয়ে দেখছে এআইআইবির সদস্য হলে মিত্র দেশ তথা দাতা সংস্থাগুলো বিরাগভাজন হবে কিনা। তাছাড়া এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলে বাংলাদেশ কী কী সুযোগ সুবিধা পাবে তাও দেখার বিষয় রয়েছে।
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





