কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান আগামীকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনের ৫ম তলার জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৩-১৪ এর প্রকাশনা প্রকাশ করবেন। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ১ এপ্রিল গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র গঠন করে। পরিধি বাড়তে থাকায় পরে একে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস (এফআইসিএসডি) নামে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপ দেয়া হয়।

জানা গেছে, ব্যাংকিং সেবা নিয়ে গ্রাহক অভিযোগ বাড়ছেই। বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দেয়া অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিয়ে হাজার হাজার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দিলেও একই রকম অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বারবার। আর এ ক্ষেত্রে শীর্ষে উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নাম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে (সিএসডি) বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০ হাজার ৯৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যা গত মে মাস পর্যন্ত ছিল ১০ হাজার ৫৫০টি। এক মাসের ব্যবধানে ৪৪০টি অভিযোগ বেড়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছে গ্রাহকদের এমন অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর অবস্থান। তবে কোনো কোনো ব্যাংক অভিযোগ সময়মতো নিষ্পত্তি করছে না বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বিদেশি একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিষ্পত্তির জন্য চাপ দেয়া হলেও ব্যাংকটি বিষয়টি আমলে নেয়নি । এ রকম অনেক ব্যাংকের বিরুদ্ধেই প্রতিদিন অভিযোগ আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

সূত্রমতে, ডেবিট বা ক্রেডিট এবং এটিএম কার্ড, চেক জালিয়াতি, ঋণ, রেমিট্যান্স, মোবাইল ব্যাংকিং, স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) টাকা তুলতে না পারা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, অতিরিক্ত চার্জ, স্বীকৃত বিল পরিশোধ না হওয়াসহ ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রাহক হয়রানি বন্ধ ও অর্থ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগে (এফআইসিএসডি) জুন শেষে মোট ১০ হাজার ৯৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

এর মধ্যে লিখিত অভিযোগ সাত হাজার ৫২২টি। আর টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে অভিযোগ এসেছে তিন হাজার ৪৬৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ হাজার ৮০৫টি। বাকি ১৮৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে লিখিত ও টেলিফোনে মোট ৯ হাজার ৬৮৪ অভিযোগ জমা পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এসব অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে নয় হাজার ৪৪২। বাদবাকি ২৪২ অভিযোগ অনিষ্পত্তি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট চার হাজার ২৯৬ গ্রাহক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ব্যাংক খাতে। এই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে দুই হাজার ৯৪১ অভিযোগ। ২০১১-১২ অর্থবছরে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছিল মোট দুই হাজার ৫২৬। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছিল দুই হাজার ৩৭০। অর্থাৎ নিষ্পত্তির হার ছিল ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর