কোরবানি ঈদের আগেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে দেশের পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার। রপ্তানিকারক দেশ ভারতের প্রতি মেট্রিক টনে ২০০ ডলার কমানোর ঘোষণা স্বত্বেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩ টাকা বেড়েছে। সে সাথে বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ায় রসুন ৫ টাকা এবং আদা ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা এ জন্য আমদানি কারকদের কারসাজিকে দায়ী করলেও বাজার মনিটরিংয়ের দুর্বলতাকে দুষছেন ক্যাব।

দেশে চাহিদার ৮০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি হয় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। রমজানের শুরুতে ভারত প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য দেড়শ ডলার বাড়িয়ে ৫০০ ডলার নির্ধারণ করলে দেশের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু গত মাসে ভারত সরকার রপ্তানি মূল্য ২০০ ডলার কমানোর ঘোষণা দেয়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভারত সরকার দাম কমালেও সেখানকার ব্যবসায়ীরা আগের দামই নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, 'আমরা রমজানে যে রেটে পেঁয়াজ বিক্রি করতাম এখন সে রেটেই করছি। ভারত পেঁয়াজের আমদানি মূল্য কমালেও আমাদের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কমাচ্ছেন না। এ কারণেই পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল।'

এদিকে দেশে আদা ও রসুন আমদানি হয় চীন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে। গত দুই মাস আগে দুটি দেশই এসব পণ্যের বুকিং রেট বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে আদার প্রতি মেট্রিক টনে ৫০০ ডলার এবং রসুন ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরেক ব্যবসায়ী জানান, 'আদা ও রসুন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমদানি নির্ভর। এসব পণ্যের বুকিং রেট বেশী থাকায় এসবের দাম একটু চড়া।'

তবে কোরবানি ঈদের আগে হঠাৎ করে এসব কাঁচা মসলার দাম অস্থিতিশীল হওয়ার জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা এ ক্যাব কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে ক্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি এম নাজের হোসেন, 'দ্রব্যমূল্যের দামের ক্ষেত্রে পাইকাররা দুষছেন খুচরা বিক্রেতাদের আর খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারদের। আমি মনে করি এসবের ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থায় দুর্বলতা আছে। সুষ্ঠু মনিটরিং থাকলে অবশ্যই দ্রব্য মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকত।'

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ, আড়াই হাজার মেট্রিক টন রসুন এবং আট'শ থেকে এক হাজার মেট্রিক টন আদার প্রয়োজন হয়। তবে কোরবানির সময় এ চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই