আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) খুব শিগগিরই তাদের প্রতিশ্রুত এক্সটার্নাল ক্রেডিট ফ্যাসিলিটিজ (ইসিএফ) ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় করবে। এর পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে প্রতিবারের মতো এবারও আইএমএফ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবে। আইএমএফ সাত কিস্তিতে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম কিস্তি শেষ হওয়ার পর এবার পালা এসেছে ষষ্ঠ কিস্তি অর্থ ছাড় করার।

ওদিকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আইএমএফের এশিয়া প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের উপ-প্রধান রডরিগো কুবেরোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের অর্থনীতি মূল্যায়ন করতে প্রায় দুই সপ্তাহের সফরে ঢাকা আসছে।

অন্যদিকে আইএমএফের ঢাকার আবাসিক প্রতিনিধি ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এ চিঠির কপি ৩ সেপ্টেম্বর অর্থ সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের সম্ভাব্য প্রতিনিধি দল এবার ব্যাংকিং খাতসহ সার্বিক অর্থনীতিতে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। অবস্থানকালে তারা ব্যাংকিং খাতের হলমার্ক কেলেংকারিসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।

এর পাশাপাশি ভর্তুকি কমাতে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারেন। সেইসঙ্গে বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানতে চেয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে কী পরিমাণ ধান ও চাল উৎপাদন হচ্ছে তারও একটি খতিয়ান দেখতে চাইবে আইএমএফ।

সূত্র মতে, তবে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের বড় কৌতূহল হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে সার্বিক অবস্থা জানার। বিশেষ করে বিগত দিনে হলমার্ক কেলেংকারির সর্বশেষ অবস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পারফরমেন্স জানার ব্যাপারে আগ্রহ বেশি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বেসিক ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা। বেসিক ব্যাংক সম্পর্কে এরই মধ্যে আইএমএফ বেশ কিছু তথ্যাদি জেনেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাংকের প্রতি তাদের দৃষ্টি বেশি। তারা এবারও বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

চলতি বছরের বাজেট তৈরির আগে ভর্তুকি নিয়ে আইএমএফ একটি ফর্মুলা দিয়েছিল। সে ফর্মুলা কতটুকু কাজে লাগানো হয়েছে তার একটি মূল্যায়ন দেখতে চায় সংস্থাটি।

বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর ব্যাপারে আইএমএফের পরামর্শ প্রতিনিয়ত। কিন্ত বিভিন্ন কারণে সরকার ভর্তুকি খুব একটা কমাতে পারছে না।

তবে আইএমএফের পরামর্শ হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ান। এ সফরে তারা সরকারের এ ব্যাপারে কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে চায়।

আইএমএফ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লাগাম টেনে ধরার ব্যাপারে এরই মধ্যে পরামর্শ দিয়েছে। সে পরামর্শ অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও কথা বলবেন তারা। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায় ও তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে আইএমএফ।

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর