পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাঞ্জাবির বাজারে ক্রেতাদের আনোগোনা বাড়ছে। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজধানীর পাঞ্জাবির বাজারগুলোতে ততইভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঈদের পোষাক পাঞ্জাবি কিনতে এসে পোষাকের মানের চেয়ে দাম অনেক বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

এবারের ঈদে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ধরণের পাঞ্জাবি উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পাঞ্জাবিই এখন বেশি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর অভিজাত মার্কেটে। বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানদাররা। তবে দাম নাগালের বাইরে থাকার কারণে সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে অনেকেই কিনতে পারছে না তার পছন্দের পোশাক।

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব। ঈদে এদেশের ধর্ম প্রিয় মুসলমানদের প্রিয় পোশাক হচ্ছে পাঞ্জাবি-টুপি। তাই ঈদ বাজারের শেষের দিকে এসে সবাই এখন পাঞ্জাবির দোকান মুখী হচ্ছে। দোকানে গিয়ে পাঞ্জাবির মূল্য দেখে বিব্রতকর অবস্থায় পরছেন অনেক ক্রেতা। চড়া দাম থাকার করাণে অনেকই পাঞ্জাবি না কিনেই বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে ফিরছেন অন্য দোকানে।

সমাজের উচ্চ শ্রেনীর মানুষ বেশি মূল্য দিয়ে পাঞ্জাবি কিনলেও কিনতে পারছে না মধ্যম আয়ের মানুষ ও সাধারণ জনগণ। তারা অনেই পাঞ্জাবির মার্কেটগুলোতে বেশি মূল্য থাকায় ছোট ও ফুটপাত দোকানের দিকে ঝুঁকছে। রাজধানী লংলা, ষ্টান প্লাজা, ইষ্টার্ন মল্লিকা, বসুন্ধধরা, নিউ মার্কেট ও বায়তুল মোকাররম এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, পোষাকের মানের চেয়ে মূল্য অনেক বেশি। লংলা মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে নিম্ম মানের পাঞ্জাবির গায়ে উচ্চ মূল্য লাগিয়ে রাখা হয়েছে। এবং পাঞ্জাবির গায়ে নির্ধারিত মূল্য লিখে রাখার পরও দামাদামি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর লংলা মার্কেটে পাঞ্জাবি কিনতে আসা ক্রেতা জাহিদ হোসেনের কাছে পাঞ্জাবির মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে টাইমনিউবিডিকে বলেন, 'ঈদের কারণে দোকানগুলোতে ডিজাইন ও মানের চেয়ে পাঞ্জাবির দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। আসলে এত বেশি দাম হওয়া উচিত নয়। এত দাম থাকলে মানুষ কিনবে কিভাবে। আর ১টি দোকান দেখবো যদি সাশ্রয়ী দামে পাই তাহলে কিনবো না হলে এবার ঈদে আর পাঞ্জাবি কেনা হবে না'

একই মার্কেটে আরেক ক্রেতা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'এখানে যা খুশি দাম লিখে রেখেছে। নির্ধারিত মূল্য লিখে রাখার পরও দামাদামি করে বিক্রি করছে। ২২০০ টাকা লিখে রেখে আবার সেই পাঞ্জাবি দামাদামি করে ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করছে। ঈদের সময়ও ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করে যাচ্ছে'।

লংলা মার্কেটের বিক্রেতা জাহিদেরে কাছে পাঞ্জাবির বেশি দাম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'ভাই আমাদের এটা কিনে আনতে হয়। ভারত গিয়ে আমাদেরকে কিনতে হয়। যেভাবে কেনা পড়ে সেভাবেই দাম নির্ধারন করে আমাদেরকে বিক্রি করতে হয়'।

ঢাকা, এমআর, ২৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর