কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বিশ্বে বাংলাদেশকে ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক হিসেবে স্বীকার করা হলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
আজ শনিবার সকালে ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) আয়োজিত ঢাকা ক্ষুদ্র অর্থায়ন সম্মেলন ২০১৪ অনুষ্ঠানে গভর্নর এ কথা বলেন।
আতিউর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো সেই পর্যায়ে এখনো পৌঁছতে পারেনি। তাদের নানা ধরনের সম্যস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের স্বল্পতা, ব্যাংকগুলো কর্তৃক উচ্চহারে সুদারোপ ও অপ্রকাশিত ব্যয় ও ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে জামানতের শর্তারোপ ইত্যাদি।
তিনি বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মেলবন্ধন স্থাপিত হলে এ প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হতে পারে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলক কম সুদহারে প্রয়োজনীয় ঋণ তহবিল সরবরাহ করা ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধ কর্মকান্ডের মধ্যেও পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আতিউর বলেন, ক্ষুদ্রঋণ নারীদেরকে দেশের আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান বা এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গভর্নর জানান, দেশে একটি সুশৃঙ্খল, টেকসই ও দরিদ্র-বান্ধব ক্ষুদ্রঋণ খাত প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য এমআরএ’র সনদ গ্রহণ এখন বাধ্যতামূলক।
ইতোমধ্যে দক্ষ রেগুলেটর হিসেবে গড়ে উঠা এমআরএ এ পর্যন্ত ৭৩২টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে সনদ প্রদান করেছে, যাদের প্রায় ১৯ হাজার শাখা দেশব্যাপী ক্ষুদ্রঋণের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত (৩০ জুন ২০১২) তথ্যানুযায়ী এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার সুবিধাভোগীর সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি এবং কর্মরত লোকবলের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। আশির দশকের ২০০ কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ খাত আজ ৩০ হাজার কোটি টাকার সেক্টরে পরিণত হয়েছে বলে গভর্নর বলেন।
তিনি আরো জানান, সাম্প্রতিককালে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাংকের ঋণ প্রবাহও বেড়েছে। জুন ২০১১ তে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে তহবিল পাওয়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯১টি, বর্তমানে তা ২৫০টিতে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, পিকেএসএফ থেকে ঋণ সহায়তা পেয়েছে ২৭১টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।
ক্ষুদ্রঋণ খাতের উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এমআরএ, পিকেএসএফ, সিডিএফ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান গভর্নর।
[b]ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে: গভর্নর
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বিশ্বে বাংলাদেশকে ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক হিসেবে স্বীকার করা হলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে ক্রেডিট এন্ড





